অন্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের অভ্যন্তরিন বিষয়ে নাক গলানোকে ভাল ভাবে দেখছিনা --কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক

অন্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের অভ্যন্তরিন বিষয়ে নাক গলানোকে ভাল ভাবে দেখছিনা –কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক

কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, জাপান বা কোন রাষ্ট্রদূতই বাংলাদেশের অভ্যন্তরিন বিষয়ে নাক গলাবে বা কথা বলবে আমরা মেনে নেতে পারছি না।। তাদের শতর্ক করা হবে। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভোম রাষ্ট, কারোর কাছে পদানত হওয়া, দেশের আত্মমর্যাদার প্রশ্নে আমরা কাউকেই ছাড় দেবোনা।

আজ বুধবার সকালে ঐতিহাসিক মুজিবনগর কমপ্লেক্স অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত আম্রকাননের সার্বিক পরিচর্যা কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি ২০১৩ ও ২০১৪ সালে আন্দোলন করেছে। তারা যতই আন্দোলন সংগ্রাম করুক আমরা তাদের সেই আন্দোলন মোকাবেলা করেই এই পর্যায়ে এসেছি। আগামীতেও তাদের আন্দোলনে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবো।
ড. রাজ্জাক বলেন, আগামীতে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠ, সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সারা পৃথিবীর সবার কাছে সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে। সংবিধানের অনুচ্ছেদের ১২৬ এ স্পষ্টভাবে বলা আছে নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। তাকে সহযোগীতা করবে ডিসি, এসপিসহ সরকারের সব শাখা। নির্বাচন অনুষ্ঠান করা নির্বাচন কমিশনের নৈতিক দায়িত্ব ।

তিনি বলেন, আমাদের দূর্ভিক্ষ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মানুষ বেড়েছে, জমি বাড়েনি। মানুষ বেড়ে এখন ১৭ কোটি হয়েছে। তাই একটু কষ্ট হতে পারে। আমাদের দেশের কৃষকরা অনেক সংগ্রামী ও পরিশ্রমি। তারা ধান লাগিয়েছে। এই বছরে প্রথম দিকে বৃষ্টিপাত না হলেও পরে বৃাষ্টপাত হয়েছে। ধানের ফলনও ভাল হয়েছে। তবে, বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে, নিচু এলাকাগুলোতেও ধান চাষ হয়েছে। আমাদের ফলন এবং উৎপাদন বেড়েছে।

ডলার সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডলার সংকট এখন আন্তর্জাতিক সংকট। সারা পৃথিবী ব্যাপি ডলার সংকট দেখা দিয়েছে। ইংল্যান্ডের মত দেশের অর্থনীতি ডলারের উপর নির্ভরশীল। সেখানেও এখন ডলার সংকট। আমরা তো গরীব দেশ। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে এই ডলার সংকট কাটিয়ে ওঠার।

মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রী বলেন, এদেশের রিকসাওয়ালা, ভ্যানওয়ালা, কৃষক শ্রমিকরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল। জীবন বাজি রেখে তারা পাক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুর আহবানে এই মুজিবনগরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছিল। এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কে আরো সুদৃঢ় করেছে। যতদিন দেশ থাকবে, ততদিন এই মুজিবনগর বাঙালী জাতীকে উজ্জীবিত করবে। বঙ্গবন্ধুর এই দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত দেশ গড়ার উজ্জীবিত করবে এই মুজিবনগর। আগামী প্রজন্মের সন্তানদের যাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা হয়নি। তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হবে এই মুজিবনগর।

এ সময় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন, মেহেরপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান, পুলিশ সুপার রাফিউল আলমসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচীব, উপসচীব,মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস, উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মাহফুজুর রহমান  ও বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।