
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য দেশব্যাপী গণভোটকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় চলছে জোর প্রস্তুতি।
অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করছে উপজেলা নির্বাচন অফিস। লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড আশা করে সাধারণ মানুষ। বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে সাধারণ মানুষ চরম উৎকন্ঠা আর সন্দিহান থাকলেও প্রশাসনের উদ্যোগে জনগণের আস্থা অর্জন করায় নির্বাচন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ বলে সুধীমহল মনে করে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা-১ (আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা সদর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৬৫ জন। ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮২ জন, নারী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৭ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৬ জন।
এই বিপুলসংখ্যক ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে উপজেলায় ১১২টি ভোটকেন্দ্র এবং ৫৯৩টি ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রায় ৪৫০ জন এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে একটি ব্যতিক্রমী বার্তা। অফিসের সিঁড়িতে বড় অক্ষরে লেখা- ‘এই অফিসে কোনো নগদ টাকার লেনদেন হয় না। আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত।’ এই ঘোষণা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার সেখ মাসুম বিল্লাহ। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগে তিনি মেধা, যোগ্যতা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে তিনি বিধি অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাচন অফিসার সেখ মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। অফিসে টানানো সতর্কবার্তাটি আমাদের মূলনীতির প্রতিফলন। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই আমরা অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।’
একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের এই প্রস্তুতি ও স্বচ্ছতা দেখে আলমডাঙ্গার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ বাড়তে পারে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সব প্রস্তুতির ফলে আলমডাঙ্গায় একটি শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দেশের অন্যতম বৃহত্তর দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ভোটারদের উপস্থিতি করা, নতুন ভোটারদের উৎসাহিত করে আনন্দ মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং জামায়াতে বিএনপি’র প্রতিদ্বন্দ্বিতা যাহাতে অহিংস নীতিতে প্রতিয়মান হয় তা অধির আগ্রহে দেখার অপেক্ষা আছে সাধারণ মানুষ।

