
আলমডাঙ্গা উপজেলার ভূমিপুত্র এ্যাড মাসুদ পারভেজ রাসেল নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলাবাসী মাঝে যেমন খুশির জোয়ার বইছে, ঠিক তেমনি কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশার এক লম্বা তালিকা সামনে প্রতিয়মান হয়েছে।
বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জানায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী এ্যাড মাসুদ পারভেজ রাসেল বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্য রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামাল হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের শরীফুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট।
এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৬ হাজার ৩৩৭ জন। ভোটগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৭৪ শতাংশ। পোস্টাল ব্যালটের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ২ হাজার ৭৪১ ভোট, ধানের শীষ পেয়েছে ৮১১ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীক পেয়েছে ৮৯ ভোট।
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর চুয়াডাঙ্গা ১ আসনে আলমডাঙ্গার সন্তান হিসেবে মাসুদ পারভেজ রাসেল বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ১৯৯১ সালে আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনীর গ্রামের কৃতিসন্তান মিয়া মুনসুর বিএনপি থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন।
মাসুদ পারভেজ রাসেলের এই বিজয় শুধু দলীয়করণে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং আলমডাঙ্গা এই বৃহত্তর জনপদে মানুষের বঞ্চনার ফসল।বিগত দিনে দেখা গেছে ১৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আলমডাঙ্গায় উপজেলার মানুষকে চুয়াডাঙ্গা সররের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে হয়েছে। করুনার পাত্র হতে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়া জলের ফোটা নিয়ে সন্তোষ্টু পেতে হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাত্র ৫ টি ইউনিয়ন ও চুয়াডাঙ্গা পৌর সভা নিয়ে গঠিত হলেও সকল উন্নয়ন,কর্মপদ্ধত,কর্মপরিকল্পনা,সকল প্রকার সূযোগ সুবিধা চুয়াডাঙ্গা সদর কেন্দ্রীক,যার থেকে আলমডাঙ্গাবাসী চিরকাল বঞ্চিত।
আলমডাঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রানের দাবি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্বিতলভবন বিশিষ্ট ঐতিহাসিক রেলস্টেশনের সংরক্ষণ ও আধুনিকায়ন,আলমডাঙ্গায় শহরের অপরিকল্পিত রাস্তা ও রাস্তা সংলগ্ন ড্রেনের সংস্করণ করে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ করা,,কুমার ও মাথাভাঙা নদীসহ সকল ক্যানেলের
দুষণরোধ,অবমুক্তকরন করে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করা,যাতে কৃষকরা যথা সময়ে পানি পেতে পারে।
আলমডাঙ্গার মৌলিক প্রত্যাশা গুলি চিরকাল অবগ্যা আর অবহেলায় ফাইলবন্ধী হয়ে পড়ে থেকেছে।
কৃষকের দুর্দশার অন্ত নেই।সারের সিন্ডিকেট,ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত, ফসলের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার প্রয়োজন,একটি সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আলমডাঙ্গা পৌর সভায় একটি অত্যাধুনিক সরকারি হসপিটাল,যুবসম্প্রদায়ের জন্য কর্ম নিশ্চিত প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা।মাদকমুক্ত সমাজ গঠন,আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা,সরকারি অফিস সহ সকল প্রতিষ্ঠানে দূর্ণীতি মুক্ত করা,পৌর সভার লাভজনক প্রতিষ্ঠান কে কলঙ্গমুক্ত করা এখন নবনির্বাচিত এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেলর বড় চ্যালেঞ্জ।
দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পাহারসম সমস্যা কাঁধে নিয়ে আলমডাঙ্গা ভূমিপুত্র এ্যাড মাসুদ পারভেজ রাসেল কতটা চাহিদা পূরণ করতে পারে সেটাই দেখার অপেক্ষায় উপজেলাবাসী।সেই সাথে স্বল্পপরিসর সময়ে এত সমস্যা সমাধানে দ্রুত করা সম্ভব নয়।তাই তাকে সময় ও সহোযোগিতায় সকলের নৈতিক কর্তব্য বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

