
৯ বছরে পদার্পণ করলো আমাদের প্রিয় পত্রিকা মেহেরপুর প্রতিদিন। জেলা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় দৈনিক। সীমান্তঘেষা ছোট্ট জেলা মেহেরপুর থেকে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ অব্যাহত রাখা ‘নুন আনতে পান্তা ফুরোনো’ অবস্থা। যেখানে ছাপাখানা নেই, পত্রিকা মেকাপ করার মেকাপ ম্যান পাওয়া যায় না, প্রিন্ট করার জন্য যে ট্রেসিং পেপার ও কালি প্রয়োজন হয় সেগুলোও পাওয়া যায় না। এর বাইরেও পত্রিকার রসদ যোগানো বিজ্ঞাপনদাতা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানও নেই। কালেভদ্রে শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন পেতেও যে পরিমাণ বেগ পেতে হয়, তা আর নাই বললাম। অসংখ্য অসঙ্গতির মধ্যে দিয়ে একটি দৈনিকের ৮ বছর অতিক্রম করার ব্যাপারটি ছোট করে ভাবারও কিছু নেই। আমরা দলগতভাবে সেই ভাবনার কাজটি করে চলেছি।
মেহেরপুরে সংবাদপত্রের ইতিহাসে এত বছর ধরে কোন পত্রিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি নানা কারণে। সকল প্রকার বাঁধাকে অতিক্রম করে মেহেরপুর প্রতিদিন ৮ বছর ধরে পাঠকের কাছে প্রতিদিন পৌছে দিয়েছে কড়কড়া পত্রিকা। সংগত কারণেই এ নিয়ে আমরা আনন্দিত, গর্বিত। মেহেরপুর প্রতিদিনকে আমরা পাঠকের মনের মনিকোঠায় নিতে পেরেছি। এই যাত্রায় আমাদের সঙ্গে আছেন অগণিত পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ী।
আপেল মাহমুদের গানের সেই লাইনগুলি মনে পড়ে বারবার।
জীবন কাটে যুদ্ধ করে
প্রাণের মায়া সাঙ্গ করে
জীবনের স্বাদ নাহি পাই
—
জানি শুধু চলতে হবে
এ তরী বাইতে হবে….।
পাঠকদের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে এ তরি আমরা বাইতেই চাই। মেহেরপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা আমাদের প্রধান শক্তি। পাঠকসাধারণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে পত্রিকাটি আমরা করোনার অতিমারিতেও প্রকাশ করে গেছি। জুলাই গণঅভুত্থ্যানের সময় যখন সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা অচল হয়ে গিয়েছিলো, সেসময়েও আমরা আমাদের প্রকাশনা অব্যহত রেখেছিলাম। আমরা বিশ্বাস করি, পাঠকই আমাদের সবচাইতে বড় শক্তি, বড় শ্রদ্ধার জায়গা। তাদের হাতে প্রতিদিন একটি গ্রহণযোগ্য পত্রিকা তুলে দেওয়ার চেষ্টা ৮বছর ধরে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছি। আগামী দিনেও এই নিষ্ঠা দৃঢ়ভাবে বজায় রাখব।
জনগণের মুখপত্র` এই স্লোগানের স্বাক্ষর রেখে যা কিছু জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে সেধরণের সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে আমাদের সহকর্মীরা নিরলস কাজ করছে।
সংবাদের ভিতরকার সকল সত্য প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। অসততা আমাদের স্পর্শ করতে পারেনি। আমরা নিরপেক্ষ নই। আমরা মানুষের পক্ষে। প্রতিটি সাধারণ মানুষ, প্রতিটি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পক্ষে আমাদের কলম চলবে। মানুষই আমাদের মূলশক্তি।
২০১৮ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের দিন যাত্রা শুরু করেছিল মেহেরপুর প্রতিদিন। স্বাধীনতার এই মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসের যুদ্ধে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।
শুধু পত্রিকা প্রকাশ করেই আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ করিনি। মাদকও অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ কবল থেকে যুবসমাজ রক্ষার উদ্দেশ্যে আমরা মেহেরপুর প্রতিদিন ফুটবল টুর্নামেন্টেরও আয়োজন করেছিলাম। আয়োজন করা হয়েছিলো উদ্যোক্তা সম্মেলন ও চাকরি প্রার্থীদের চাকরি মেলা। পত্রিকার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে আমাদের প্রতি সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে লাইভ ‘টক শো’ অনুষ্ঠান চলমান রয়েছে। সবশেষে নতুন যুক্ত হয়েছে মাল্টিমিডিয়া ভার্সন। ভিডিও প্রতিবেদনের মাধ্যমেও দর্শকদের মাঝে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা গল্প তুলে ধরছে আমাদের সহকর্মীরা।
পরিশেষে আমাদের পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও মেহেরপুর প্রতিদিনকে যাঁরা ভালোবাসেন তাঁদের প্রত্যেককে শ্রদ্ধা, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
লেখক: সম্পাদক, মেহেরপুর প্রতিদিন

