বিএনপি নেতা তোফায়েল হোসেন

বিএনপি নেতার দাফন সম্পন্ন, মৃত্যুকে ঘীরে নানা গুঞ্জন

চেক ডিজঅনার মামলায় কারাাণÍরীণ অবস্থায় মেহেরপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তোফায়েল আহমেদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে মেহেরপুর শহরে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। বিএনপির নেতাদের দাবী কারাগারে বিএনপি নেতা তোফায়েলকে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে। তোফায়েলের মেয়ে তার বাবার মৃত্যুর জন্য সাংবাদিক মিজানকে দায়ী করে বিচার দাবী করেছেন।

এদিকে সোমবার বিকাল ৩ টার সময় মেহেরপুর সদর উপজেলার উজুলপুর গ্রামে নামাজে জানাযা শেষে ওই কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে দুপুরের দিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তার(আরএমও) নেতৃত্বে তিন সদস্যর চিকিৎসক দল ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে লাশের স্যাম্পল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে হত্যাকান্ড সম্পর্কে পরিস্কার জানা যাবে বলে জানিয়েছেন আরএমও মোকলেসছুর রহমান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মাসুদ অরুন, সাধারণ সম্পাদক ও মেহেরপুর-২ আসনের সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন, মেহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তুরের নেতাকর্মী।

এই মৃত্যুকে হত্যাকান্ড দাবী করে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মাসুদ অরুন বলেন, একজন আসামি অসুস্থ হলে তাদের অভিভাবককে জানাতে হবে। তোফায়েল একজন রাজনৈতিক নেতা। তার দলীয় নেতাদের জানাতে হবে। সেটি না করে মৃত্যুর ২ ঘন্টা পরে পরিবারকে জানানো হয়েছে। এর সুস্পস্ট ব্যাখ্যা দাবী করেছেন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। একই সঙ্গে এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ তদন্ত দাবী করেছেন।

নিহত তোফায়েল হোসেনের মেয়ে তাহমিন রুশদি অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমার বাবা মেহেরপুরের সাংবাদিক মিজানের (মিজানুর রহমান, তিনি অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক) কাছে থেকে আড়াই লক্ষ টাকা সুদের মাধ্যমে ঋণ নিয়েছিলেন। সাংবাদিক মিজানকে সুদসহ আসল টাকা অনেক আগে পরিশোধ করা হয়েছিলো। কিন্তু তিনি সুদের সুদের জন্য চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে দেওয়া ব্যাংকের চেক ডিজঅনার দেখিয়ে আব্বুর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় আমার আব্বুর জেল হয়েছিলো। আমি সাংবাদিক মিজানের বিচার চাই।

তাহমিন রুশদি আরো বলেন, আমার বাবা সুস্থ ছিলেন। কখন কিভাবে অসুস্থ হলেন আমরা জানিনা। জেলখানা থেকে তার মৃত্যুর খবরও আমাদের জানানো হয়নি। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফেইসবুক ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত হয়ে আমরা হাসপাতালে আসি। এরপর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আমার বাবার মৃতদেহ পাই।

তবে, অভিযুক্ত সাংবাদিক মিজানুর রহমান বলেন, তোফায়েলের মেয়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তোফায়েল আমার কাছে থেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সাবেক এমপি মাসুদ অরুন মিমাংসা করে দেওয়ার পর তিনি ৬ লাখ টাকার চেক দিয়েছিলেন। আমি সবার অনুরোধে তাকে ১ লাখ টাকা মাফ করে দিয়েছি। সেই চিক ডিজঅনার মামলায় তার ৮মাসের জেল হয়। তোফায়েল জেলে যাওয়ার পরেও মাসুদ অরুন আমাকে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছে। আমি সেটা করতেও চেয়ছি।

মেহেরপুর সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেহেরপুর সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগারের নিজস্ব গাড়িতে করে তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ২৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

মেহেরপুর জেলা কারাগারের সুপার মোখলেসুর রহমান জানান, তিনি এনআই আইনের একটি মামলায় ৮ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। গত ৩০ মে তাকে আদালত কারাগারে পাঠায়।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জেল সুপার মোখলেসুর রহমান জানান, তিনি মাইক্রো কার্ডিয়াক ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।