
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ৪ দিন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের মাঝে উৎসব-উদ্দীপনা বাড়ছে; একই সঙ্গে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠাও বিরাজ করছে। অপরদিকে, শেষ সময়ের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন প্রার্থী ও তাঁদের অনুসারীরা।
প্রার্থীদের কাছে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা—তাঁরা যেন কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে প্রার্থীরাও দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
মেহেরপুরের দুটি আসনের বেশ কয়েকটি গ্রামের সাধারণ কৃষক, গৃহিণী ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে জনকল্যাণে কাজ করার প্রত্যাশাও সাধারণ ভোটারদের।
এদিকে, নির্বাচনের আগে মেহেরপুরের মুজিবনগর ও গাংনী এলাকায় গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি ককটেল ও বোমা উদ্ধার, যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার এবং আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ছিনতাই ও চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
মেহেরপুর-১ আসনের আওতাধীন উজুলপুর গ্রামের কৃষক রশিদ আলী বলেন, ‘সরকার আসে সরকার যায়, আমাদের কোনো আয়-উন্নতি নেই। আমরা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ফসল ফলাই। কিন্তু বেচতে গেলে দাম পাই না। নতুন সরকারের কাছে দাবি জানাই, তারা যাতে আমাদের ফসলের ন্যায্যমূল্যের ব্যবস্থা করে দেয়।’
মেহেরপুর শহরের হোটেল বাজার এলাকার ভোটার ইমদাদুল হক বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যাতে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রাস্তাঘাটে ছিনতাই-চাঁদাবাজি না হয়—এমনটাই প্রত্যাশা করি।’
মেহেরপুর-২ (গাংনী) সংসদীয় আসনের আওতাধীন গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা গাংনী উপজেলার বাসিন্দা হলেও জেলা শহরের সাথে আমাদের যাতায়াত বেশি। কিন্তু কাজ থাকলেও সন্ধ্যার মধ্যে গ্রামে ফিরতে হয়। সন্ধ্যা নামলেই মনে ছিনতাই ও ডাকাতির ভয় কাজ করে। যিনি আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেবেন, তাকেই ভোট দেব।’
জানা গেছে, মেহেরপুর পৌরসভা, সদর ও মুজিবনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মেহেরপুর-১ সংসদীয় আসন। এ আসনে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৫ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯০, নারী ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। ১৯৯০ পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমানতালে জয়লাভ করেছে। এবার এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। বিএনপি থেকে মাসুদ অরুণ এবং জামায়াত থেকে তাজ উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকিরা হলেন সিপিবি-র অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ।
মাঠের বাস্তবতায় এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যেই। অতীতে জামায়াতের এ আসনে প্রায় ৩০ হাজার ভোটব্যাংক ছিল, যা বর্তমানে আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুরুতে বিএনপির ভেতরে কিছুটা কোন্দল থাকলেও এখন নেতাকর্মীরা একতাবদ্ধ। তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে মাসুদ অরুণ এগিয়ে থাকলেও প্রচার-প্রচারণায় জামায়াতও বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৫ জন। এখানে প্রার্থী তিনজন, তারা হলেন-বিএনপির আমজাদ হোসেন, জামায়াতের নাজমুল হুদা এবং জাতীয় পার্টির আব্দুল বাকী। এখানেও লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। ৯১ পরবর্তি এখানেও কখনো আওয়ামী লীগ কখনও বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
কামরুল ইসলাম নামের এক বিএনপি সমর্থক বলেন, ‘মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টন মনোনয়ন না পাওয়ায় দলীয় কোন্দল এখনো রয়ে গেছে। মিল্টন কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিলেও আমজাদ হোসেনের অনুসারীরা তাঁদের সেভাবে মূল্যায়ন করছেন না। ফলে অনেক কর্মী হয়তো নিষ্ক্রিয় থাকতে পারেন, যা আসনটি ধরে রাখা মুশকিল করে তুলবে।’

