কোটচাঁদপুরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষকের অভিযোগ

কোটচাঁদপুরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষকের অভিযোগ

কোটচাঁদপুরের আব্দুর রাজ্জাক খান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক,সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসে। অভিযোগ পেয়েছি,তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানালেন শিক্ষা কর্মকর্তা অসিত বরণ পাল।

কোটচাঁদপুর উপজেলার আব্দুর রাজ্জাক খান বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী সহকারি শিক্ষক রেশমা খাতুন বলেন,গেল ১৫ সেপ্টেম্বর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বলরাম সাহা বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান।  প্রশ্ন তোলেন ছেলের প্রসাব করা ও ওই বিদ্যালয়ের সহাকারী শিক্ষক নন্দিতা রানীকে নিয়ে বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার। তিনি ওই সব ঘটনা নিয়ে প্রধান শিক্ষক সহ আমার উপর রাগান্বিত হয়। এরমধ্যে আমি কথা বলায়,তিনি আমার চরিত্র নিয়ে কথা তোলেন। করেন কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য। ওই ঘটনা নিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন,২০১৮ সাল থেকে নন্দিতা রানী এ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে আছেন। তিনি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বলরাম সাহার স্ত্রী।

এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তিনি তাঁর বাচ্চাকে নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। এতে করে বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের লেখা-পড়ায় বিঘ্ন ঘটে। এ সব নিয়ে কথা বললে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।

এ ব্যাপারে গেল ২০-০৩-২২ তারিখে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়। এর আগেও ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর বেশ কয়েকটি অভিযোগও করেছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক,প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা। তবে তাতে কোন লাভ হয়নি। এতে করে তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

এ সব অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বলরাম সাহা বলেন,ওই সব ঘটনা যে, সময় ঘটেছে। আমি তখন অন্য ক্লাস্টারে ছিলাম। আমি কিছু জানিনা। ওই সময় যে অফিসার ছিলেন,তাঁর কাছে বিষয়টি শুনবেন।

তিনি প্রতিবেদকের কাছে রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ করে বলেন,রেশমা খাতুন পাঠ দানের সময় মোবাইল ব্যবহার করেন। সেটা ওনি করতে পারেন কিনা। এছাড়া তিনি ক্লাস রুমে চেয়ারের উপর পা তুলে দিয়ে ফেসবুক চালান।

উদ্ধোতন কর্মকর্তা যাবার পর কোন সম্মান না দেখিয়ে, বরং ওনার সঙ্গে খারাপ আচারন করেন। তিনি ক্লাস না নিয়ে ক্লাসের বড় বাচ্চাদের দিয়ে ক্লাস করান। কর্মস্থলে থেকে কাজ করার কথা থাকলেও তিনি ঝিনাইদহ থেকে প্রতিদিন দেরি করে বিদ্যালয়ে আসেন। যার প্রমানপত্র আমাদের কাছে সব আছে। আর ওনি যে অভিযোগ করেছেন তা ঠিক না। ওনার অনিয়ম ঢাকতে, তিনি এ সব বলছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অসিত বরণ পাল জানান, এ সংক্রান্ত একটা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান মাসুম বিল্লাহ বলেন,ওই শিক্ষক উপরের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। তাঁর অনুলিপি দিয়েছেন আমাকে। ঘটনাটি ওনারা দেখবেন।