
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুরে মধ্যরাতে গোয়ালঘরে আগুন লেগে তিনটি গরু দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি গরু পুড়ে মারা গেছে। আগুনে বসতবাড়ি ও পাশের পান চাষের বরজ পুড়ে যায়। এক নিমিষেই তিন বিঘা জমির পানের বরজসহ চারটি পরিবারের স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি সোমবার মধ্যরাত ১২টার দিকে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিলিটারি পাড়ায় মিন্টু হোসেনের বাড়িতে ঘটে। পানের বরজের মালিকরা হলেন একই এলাকার নজরুল ইসলাম ও ইন্তাজুল হক।
স্থানীয়দের ধারণা, গরু রাখা গোয়ালঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মিন্টু হোসেন বলেন, “রাতে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে বাড়ির দিকে ছুটে আসি।
কোনোভাবে পরিবারের সদস্যদের ঘর থেকে বের করতে পেরেছি। কিন্তু আমার তিনটি গরু, মুরগি ও ঘরের সব আসবাবপত্র চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গরুগুলো ঋণের টাকায় কিনেছিলাম। এখন কীভাবে সেই ঋণ শোধ করবো বুঝতে পারছি না। গতকাল সব ছিল, আজ আমি নিঃস্ব।”
পান চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, “বাড়ির পাশে দুই বিঘা জমিতে পানের আবাদ ছিল। রাতে শুনতে পাই বরজে আগুন লেগেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে সব পুড়ে গেছে। আমি জমি লিজ নিয়ে চাষ করেছিলাম, এখন সব শেষ।”
আরেক চাষি ইন্তাজুল হক বলেন, “রাতের আগুনে আমাদের বরজের সব পান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি ও আমার পরিবার পথে বসে গেছি। প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, মধ্যরাতে মিন্টু হোসেনের গোয়ালঘরে আগুন লাগে। এতে তিনটি গরু দগ্ধ হয়, যার মধ্যে দুটি মারা গেছে। গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। মিন্টু একজন অসহায় মানুষ; ঋণ করে গরু কিনেছিলেন, এখন তার সবকিছুই পুড়ে গেছে।
কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন বলেন, “আগুনে একটি পরিবারের বসতবাড়ি ও তিনটি গরু পুড়ে গেছে। পাশাপাশি পানের বরজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”

