
“হাসবো মোরা প্রাণ খুলে, থাকবো বেঁচে সবাই মিলে”- এই শ্লোগানে দামুড়হুদার ওরা বন্ধু সংঘ’র উদ্যোগে শীতবস্ত্র উপহার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। একই সাথে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বন্ধু সংঘ’র পূর্ব ঘোষিত ৪ দিনব্যাপী শীতবস্ত্র উপহার বিতরণের কর্মসূচীর সমাপনী করা হয়।
সাংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে ১১ দামুড়হুদা সদর ও হাওলি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বিধবা, এতিম, অসহায় ও দিনমজুর পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র উপহার বিতরণের মাধ্যমে তার দিন পারু কর্মসূচি সুবোধ পালন করা হয়েছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিকাল সাড়ে ৩ টায় উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের হুদাপাড়া সীমান্তবর্তী গ্রামে সংগঠনের ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুরশেদ বীন ফয়সাল (তানজির)- এর সভাপতিত্বে এলাকার বিধবা, ভিক্ষুক, অসহায় দিনমজুর পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র উপহার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজ সেবক দেশ ব্রিকস এর স্বত্বাধিকারী হাজী মো:আব্দুল কাদির।শীত বস্ত্র বিতরণের মহতী উদ্যোগ কারো কারো জীবনে বড় কষ্ট দূর করতে পারেন উল্লেখ করে শীতবস্তুফার বিতরণের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য তিনি বলেন, শীত মৌসুমের কনকনে শীতে তাদের অসহায়ত্ব আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। আমাদের প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী এমন মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংগঠন কিংবা ব্যক্তির পাশে থাকা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই আয়োজনে সংগঠনের বন্ধু হয়েছেন যারা তাদের সকলের ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সর্বোপরি সংগঠনটির এমন প্রচেষ্টা আর্ত মানবতার সেবায় অবদান রাখবেন বলে বিশ্বাস করি।
ওরা বন্ধু সংঘ’র সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ইঞ্জিনিয়ার আক্তারুল ইসলাম ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মদ,সংগঠনের সহ-সভাপতি আসলাম মিয়া প্রমুখ।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইঞ্জিনিয়ার সাজু আহমেদ, সাব্বির হোসেন, শেখ হাতেম, জহুরুল ইসলাম, সজল আহমেদ সহ উপস্থিত উপকারভোগী নারী-পুরুষ।
এমন সকল মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমাজের সচ্ছল, ধনী ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মুরশেদ বিন ফয়সাল (তানজির) বলেন, শীত মৌসুমে বাংলাদেশে শৈত্য প্রবাহ ও সংশ্লিষ্ট কারণে প্রতিবছর প্রায় ২’শ ৮১ জন মানুষের মৃত্যু হয়।
আমাদের দেশে তাই তিন কোটিরও বেশি মানুষ মানবতার জীবন যাপন করে আসছেন শীতবস্ত্রের অভাবে, যদিও আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে বস্ত্র অন্যতম। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি আর অর্থ পাচারের মাধ্যমে লুটেরা ধনিক শ্রেণীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও অসচ্ছল নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো পূর্বের ন্যায় একই রয়ে গেছেন। অপ্রিয় হলেও সত্য যে,৭১,৯০ ও ২৪ বারবার মানুষের স্বপ্ন,আশা কিংবা আকাঙ্ক্ষা ধুলিস্যাৎ হয়েছে।কাজেই সমাজের মানুষ হিসেবে আমাদের দায়বদ্ধতা থেকেই”ওরা বন্ধু সংঘ”সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য শীতবস্ত্র উপহার তুলে দিচ্ছেন।

