মুজিবনগরের চা দোকানী লিয়াকত হত্যা মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন

মুজিবনগরের চা দোকানী লিয়াকত হত্যা মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন

মুজিবনগরের বাগোয়ান গ্রামের চা দোকানী লিয়াকত আলী হত্যা মামলায় তিন জন কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও তিন জনকে ১ বছর করে ও বাকীদের বেখসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

আজ রবিবার (২৮ আগষ্ট) বেলা ১১ টার দিকে মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রিপতি কুমার বিশ্বাস এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় প্রদান করেন।

দন্ডিতরা হলেন, মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের মৃতু অলিয়ত খাঁ’র ছেলে কবিদুল ইসলাম তার সহোদর ভাই মফিদুল ইসলাম এবং মৃতু আবু লায়েস খাঁ’র ছেলে জামাত আলী ওরফে খোকা।

দন্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে দোষী প্রমাণীত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে যাজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া একই মামলায় অন্য ধারায় তহুরা খা’র ছেলে লিয়াকত আলী ওরফে দুদু খাঁ, আবু লায়েছে খাঁ’র ছেলে ছোট খোকাকে এক বছর করে কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত।

চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির বিচার চলাকালিন সময়ে আসামিরা সবাই আদালতে হাজির ছিলেন।
বাকি আসামি মফিদুল খাঁ’র ছেলে মশিউর রহমান, তাছির উদ্দীন, কাবিরুল খার ছেলে সাদিক ও অলিয়ত খাঁর ছেলে আবির হোসেনকে বেখসুর খালাস দিয়েছে আদালত।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারী নিহতের ভাই রিপন হোসেন মামলার আসামি জামাত আলী ওরফে খোকার কাছ থেকে পূর্বের পাওনা ৪০০ টাকা চাইতে গেলে বাক বিতন্ডা হয়। এই বাক বিতন্ডার জের ধরে হামলাকারীরা বিকালের দিকে রিপন হোসেনকে হত্যার উদ্যোশ্যে তার বড় ভাই লিয়াকত আলীর দোকানে বসা থাকা অবস্থায় ধারালো অস্ত্র রামদা, হাসুয়া রড নিয়ে হামলা করে। হামলা চলাকালিন সময়ে রিপন তার ভাই চা দোকানীর ভিতরে পালিয়ে যায়। এসময় লিয়াকত আলী হামলাকারিদের নিবৃত করতে গেলে তারা প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়।

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই মোখলেছুর রহমান বাদী হয়ে মুজিবনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মুজিবনগর থানার মামলা নং ০২, তারিখ ৯/০১/২০১৬ ইং, ধারা-১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩০২/৩৪/১১৪ পেনাল কোর্ড। জিআর মামলা নং ৭/১৬ ইং।

তদন্ত শেষে ২৫/০২/২০১৬ মুজিবনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান মামলার চার্জশীট প্রদান করেন।

রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবি ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) কাজী শহিদুল হক ও আসামিপক্ষের আইনজীবি ছিলেন অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী।
আসামি পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

তবে রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবি কাজী শহিদুল হক বলেন, এই রায়ে আদালতের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা রায়ের প্রতি সন্তুষ্ট।