
মেহেরপুরের দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম ভোটের মাঠ। প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। পাড়া, মহল্লা, মাঠঘাট ও চায়ের দোকানের মাচায় বসে চলছে ভোটারদের আলোচনা। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে অবৈধ অস্ত্রের শঙ্কাও। প্রার্থীদের অভিযোগ ভোটের আগেই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে এবং ভোটার উপস্থিতি কম হবে বলে আশংকা করছেন সব দলের প্রার্থীরা।
পুলিশের তথ্যমতে, গেল বছর, মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২টি আগ্নোস্ত্র, ২৭ রাউন্ড গুলি, ৬টি কার্তুজ, ৮টি ম্যাগজিন উদ্ধার করেছেন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সাথে বেশ কিছু বোমা সাদৃশ্য বস্তু ও দেশীয় ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে আইন শৃংখলা রক্ষাকরী বাহিনী।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি প্রধান ও সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুর। শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষ কৃষিতে নির্ভরশীল। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা কোমর বেধে নেমেছেন প্রচারনায় । সকাল থেকে রাত অবধি ভোটারদের কাছে ছুটছেন প্রার্থীরা।
কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করবে এমন প্রার্থীকেই ভোট দিতে চান ভোটাররা। কিন্তু নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অবৈধ অস্ত্র। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাটিতে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার সীমান্তের পুরোটাই কাটাতার দিয়ে বেষ্টিত। তার পরও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে প্রবেশ করছে অবৈধ অস্ত্র। প্রশাসনের অভিযানে তা ধরাও পড়ছে। বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হতে পারে নির্বাচনে। এবং ফলাফলেও প্রভাব পড়তে পারে এমন শংকা প্রার্থীদের মধ্যে।
মেহেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন বলেন, অনেক সন্ত্রাসী ঘাপটি মেরে বসে আছে তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করতে চাই তারা অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চাই। এদের আইনের আওতায় না আনলে একটা বড় ধরনের শংকা থেকেই যায়। সেই সাথে তিনি শতভাগ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আশা ব্যাক্ত করে বলেন, মেহেরপুরের কৃষি, শিল্প, চিকিৎসা ও শিক্ষার উন্নয়ন করতে চান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মওলানা তাজ উদ্দিন বলেন, মেহেরপুর একটি সীমান্তবর্তী জেলা।
ভারত থেকে বিভিন্ন সময় অস্ত্র আসছে এমন কথা শুনছি। যেহেতু অনেক আগ্নেয়াস্ত্র প্রশাসন উদ্ধার করেছে। এতে আমাদের মধ্যে শংকা তৈরী হয়েছে। প্রশাসনকে আরও বেশি তৎপরতা না দেখালে নির্বাচনে শংকা থাকবে।
মেহেরপুর-২(গাংনী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সাংসদ আমজাদ হেসেনের মধ্যেও রয়েছে অবৈধ অস্ত্রের শংকা। এছাড়াও মেহেরপুর-২(গাংনী) আসনের জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হুদা বলেন, অস্ত্রৈর ঝঞ্ঝনানি থামাতে না পারলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং ভোট কেন্দ্রে ভেঅটার উপস্থিতি কমবে ।
তবে সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান সীমান্ত এলাকার ভোটাররা।
অনলাইন জুয়া বন্ধ ও মাদক দুর্নীতিমুক্ত মেহেরপুর চান নতুন ভোটাররা। সার কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম কমাবে এমন সরকার চান সাধারণ ভোটাররা।
মেহেরপুর পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও নির্বাচনে আইন শৃংখলা রক্ষায় প্রশাসন মাঠে কাজ করছে এবং অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ সোচ্চার রয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তা ড: সৈয়দ এনামুল কবীর বলেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে এবং যাদের বিরুদ্ধে রেকর্ড খারাপ আছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড: সৈয়দ এনামুল কবীর।
মেহেরপুরের দুটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা-৫ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮০ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯২ হাজার ৯৭৭ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ৬৯৭ জন। হিজড়া ভোটার ৬ জন এবং নতুন ভোটারের সংখ্যা ৩১ হাজার ৭১৪ জন।

