
মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দিন বলেছেন, বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একশ্রেণীর শিক্ষার্থী শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান বা মর্যাদা দেয় না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বকাঝকা করেন বা পড়ালেখায় চাপ প্রয়োগ করেন।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু একশ্রেণীর অভিভাবক ও শিক্ষার্থী এ বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা অনভিপ্রেত। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো রেজাল্টের দিকে মনোযোগ না দিয়ে প্রতিটি বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান (বেসিক নলেজ) অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কম পাশের হার লক্ষ্য করা যায়। অনেক শিক্ষার্থী অন্যান্য বিষয়ে ভালো করলেও ইংরেজি বিষয়ে ন্যূনতম নম্বর না পাওয়ায় অকৃতকার্য হয়ে থাকে। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় খাতার টপশিটে বিভিন্ন ভুলের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি দেশের অভ্যন্তরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দেন। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কোর্স সম্পন্ন করার পর বিদেশে যাওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন। বিশেষ করে অভিভাবকদের আর্থিক বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিদেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেন।
তিনি বলেন, শুধু এ প্লাস বা ভালো ফলাফল করলেই চলবে না, পাশাপাশি ভালো মানুষও হতে হবে। বাবা-মা, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। একজন ভালো ছাত্রের চেয়ে বেশি প্রয়োজন একজন ভালো ও দায়িত্বশীল মানুষ হওয়া।
তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখির অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মেহেরপুরের গাংনীতে সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে তিনি সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান ল্যাবরেটরি, নার্সিং ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি কক্ষ ও ক্লাসরুমসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান ল্যাবরেটরিতে আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শন শেষে সন্ধানীর কনফারেন্স রুমে শিক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধানী সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম বকুল। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান বিশ্বাস ও সন্ধানী নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শাহনাজ পারভিন সুমী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজ শাখার একাডেমিক প্রধান রাজু আহমেদ।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপাচার্য উচ্চশিক্ষা ও দেশ-বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্যকে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরাব হোসেন সামি, মৌমিতা আক্তার এবং দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন লাবিব ও স্নেহা উপাচার্যের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করে শিক্ষা বিষয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে

