
হতদরিদ্র, বিধবা ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন এক স্বচ্ছল কলেজ শিক্ষক এমন ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে।
রোববার আলমডাঙ্গা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে ইয়াসিন আলি নামে এক ব্যক্তিকে চালের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক। একজন কলেজ শিক্ষককে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ চাল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে যান।
চাল নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক ইয়াসিন আলি বলেন, “আমার বাসায় কে কার্ড দিয়ে গেছে আমি জানি না। তবে কার্ড যেহেতু পেয়েছি, তাই চাল নিতে এসেছি। এটা আমার প্রাপ্য বলেই মনে করি।”
তবে স্থানীয়দের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, ইয়াসিন আলির আলমডাঙ্গা পৌরসভার এরশাদপুর এলাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটবাড়ি রয়েছে এবং তিনি যথেষ্ট জমি-জমার মালিক। একজন স্বচ্ছল ব্যক্তি হয়েও সরকারি ত্রাণ নেওয়া নীতিবহির্ভূত এবং প্রকৃত দরিদ্রদের প্রতি অবিচার বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রানা বলেন, ওই শিক্ষক অনেক আগে থেকেই চাল নিচ্ছেন। এবার আমরা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চাল বিতরণ করছি। হয়তো ভুলবশত তার হাতে কার্ড চলে গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমি খোঁজ নিয়েছি কে তাকে কার্ড দিয়েছে, কিন্তু কেউ দায় স্বীকার করছে না। আমি নির্দেশ দিয়েছি, যদি তিনি পাওয়ার যোগ্য না হন, তবে সেই চাল যেন কোনো প্রকৃত গরিব ব্যক্তিকে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। স্বচ্ছল ব্যক্তিদের এ ধরনের সুবিধা গ্রহণ প্রকৃত দুস্থদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে বলেও তারা মত প্রকাশ করেছেন।

