
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রয়ারী ৬ষ্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাতুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে পুলিশের গুলিতে রেহেনা আক্তার আলতামতি নিহত হয়। তিনি ছিলেন একজন সদালাপী, ধর্মভিরু গৃহবধু।
৫বছরের ছেলেকে খুজতে গিয়ে গুলিতে পুলিশের গুলিতে বুক ঝাজরা করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন তিনি। মৃত্যুর ৩০ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো তার পরিবার বিচার পায়নি। এতিম দুই সন্তান রিপন ও শিপনকে কেউ পুর্নবাসিত করতে এগিয়েও আসেনি। খুবই দুঃখ কষ্টের মধ্যে চলছে তাদের সংসার।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভাতুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী পুলিশের গুলিতে নিহত হন আলতামতি। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মেয়ে। এতিম দুই শিশুকে মানুষ করতে ১৯৯৮ সালের দিকে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী কিছু আর্থিক অনুদান দেন।
তারপর দীর্ঘ দিন পার হয়ে গেলেও আর কেউ খোঁজ খবর নেয়নি। ইতি মধ্যে দীর্ঘ ৩০বছর পার হয়ে গেছে। আলতামতির দুই সন্তান এখন অনেক বড় হয়েছে। তারা বেশি লেখাপড়াও শিখতে পারেনি। এখন তারা পরের দোকানে কাজ করে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে সংসার চালায়। আলতামতির মৃত্যুর সময় বড় ছেলে রিপনের বয়স ছিল সাড়ে ৪ বছর আর ছোট ছেলে শিপনের বয়স ৩ মাস।
রিপনের বয়স এখন ৩৫ বছর। কিন্তু মেলেনি কোন সরকারী চাকরী বা সহযোগীতা আর ২৯ বছর বয়সী শিপন আলী এইচএসসি পাশ করার পর অর্থাভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি এখন অন্যের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কাজ করে সংসার চালায়।
আলতামতির বড় ছেলে রিপন জানান, তার মা মারা যাওয়ার পরে ২/৩ বছর যাবৎ মামাদের উদ্যোগে আমার মায়ের মৃত্যু বার্ষিকী পালন করতেন। এখন আর কেউ পালন করে না। তিনি আরো জানান দীর্ঘ সময় অতিবাহীত হলেও সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা আমরা পায়নি।
আলতামতির দুই সন্তান ও স্বজনরা তাদের সরকারী সহায়তাসহ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

