
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার শিবপুরে অন্যতম শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট মুর্শিদ আলম লিপুর বাগানবাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
এ সময় দুইটি ল্যাপটপ, একটি ফোন, একটি ট্যাব, অনলাইন জুয়ার আর্থিক লেনদেনের প্রধান অ্যাপ রেডি অ্যাপসের ‘রেডি পে মাস্টারকার্ড’, বিপুল ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডসহ তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টা থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত মুজিবনগরের বিশ্বনাথপুর-শিবপুর সড়কে অবস্থিত লিপুর বাগানবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার সানা। বিশ্বনাথপুর ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, লিপু, পরাগ ও ক্যামেলসহ দেশের ৭-৮ জন শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট বাগানবাড়িতে অবস্থান করে জুয়ার সাইটের কাজ পরিচালনা করছেন–এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালানো হয়। তবে দূরবর্তী স্থানে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরায় পুলিশের গাড়ির উপস্থিতি দেখতে পেয়ে বাগানবাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা গোপন পথ দিয়ে পালিয়ে যান।
পরে তাদের গ্রেপ্তারে বাগানবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘক্ষণ অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে বাগানবাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা দুইটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ও একটি ট্যাব ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জব্দ করা হয়।
একই সময় বাগানবাড়ি থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি মোটরসাইকেল, বিপুলসংখ্যক ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং রেডি অ্যাপসের একটি রেডি পে মাস্টারকার্ড জব্দ করে ডিবি।
ডিবি পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদ আলম লিপুর নামে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৪টি সাইবার আইনে মামলা চলমান রয়েছে। তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার পর অনলাইন জুয়া পরিচালনায় এগুলোর ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন একটি সাইবার মামলা দেওয়া হবে। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সব তদন্ত কার্যক্রম শেষে হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।