
১৭ দিনেও অপসারণ করা হয়নি কোটচাঁদপুর-তালসার সড়কের কুশনা মাঠ সংলগ্ন এলাকায় ঝড়ে পড়ে থাকা গাছগুলো। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর-তালসার সড়কটি উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে কোটচাঁদপুর থেকে ঝিনাইদহ সদর, ডাকবাংলা, গোপালপুর, চণ্ডীপুর, কাশিশনগর, সারুটিয়াসহ ১৫-২০টি এলাকার প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার থেকে লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করেন। এছাড়া ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫-২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে।
গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় হওয়া ঝড়ে কড়াই, মেহগনিসহ বেশ কিছু গাছ সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে এবং কিছু গাছ হেলে পড়ে থাকে।
স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে কিছু ডালপালা সরিয়ে আংশিকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করলেও এখনো সড়কের ওপর মূল্যবান গাছের গুড়ি পড়ে রয়েছে এবং অন্তত দুটি গাছ হেলে আছে। ফলে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কুশনা গ্রামের বাসিন্দা লান্টু মণ্ডল জানান, ঝড়ের দিন রাতেই শ্রমিক এনে কিছু ডালপালা সরিয়ে সামান্য চলাচলের উপযোগী করা হয়। এরপর একাধিকবার বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্যালো ইঞ্জিনচালিত মিনি পিকআপচালক স্বপন বলেন, “প্রায় পাঁচ বছর ধরে এ সড়কে চলাচল করছি। কিন্তু গত ১৫-১৭ দিন ধরে ঝড়ে গাছ হেলে পড়ায় চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। বড় যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ রয়েছে।”
উপজেলা প্রকৌশলী কল্পনা রানী বিশ্বাস বলেন, “ঘটনাটি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। গাছ অপসারণের বিষয়ে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”
কোটচাঁদপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, “ওই সড়কের গাছগুলো বন বিভাগের আওতাধীন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, “বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এখন জেনেছি, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”