
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ১ নম্বর দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদে কৃষি প্রণোদনার পাটবীজ বিতরণ না করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে দারিয়াপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় ১১ বস্তা, মোট ৫৫০ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ১ কেজি) পাটবীজ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা পথরোধ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের বীজ ব্যবসায়ী আফতাব আলী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কামরুজ্জামানের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে এসব বীজ ক্রয় করেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাটবীজ বিতরণের বিষয়ে তাদের কোনো ধরনের অবহিত করা হয়নি। কৃষকদের মধ্যে বিতরণ না করে সরকারি প্রণোদনার বীজ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কামরুজ্জামান বলেন, পাটবীজের সঙ্গে সার না থাকায় কৃষকরা বীজ নিতে পরিষদে আসেননি। পরে বীজের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে।
তবে দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, বীজ বিক্রির বিষয়ে সচিব তাকে কিছু জানাননি। বীজ বিক্রির সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিতও ছিলেন না এবং বিষয়টি সম্পর্কে তার কোনো পূর্বজ্ঞান ছিল না।
এ বিষয়ে উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর থানার উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান জিয়া। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বীজ জব্দ করা হয়নি। এ বিষয়ে ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা জানান, জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বীজগুলো ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের জিম্মায় সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত দেন।
এদিকে, যে ইউনিয়ন পরিষদকে কেন্দ্র করে বীজ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে, সেই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের কাছেই বীজ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে বীজ অন্য কোনো সরকারি দপ্তর বা থানার হেফাজতে রাখা উচিত ছিল কি না—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।