
কুষ্টিয়ায় আগের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বদলি করে দেওয়া হয়েছে’ বলে এক আলোচনা সভায় বলেছেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ (রুমি)। তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় মেহেদী আহমেদ এ বক্তব্য দেন।
২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত নির্বাচনে (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের (ডিসি), কুমারখালী উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও), খোকসা উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও)সহ কিছু গাদ্দার ও আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। আমি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি।’ এক লাখেরও বেশি ভোটে জেতার কথা ছিল।
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আমার বয়স ৭৩ বছর, ৬০ বছর ধরে রাজনীতি করি। মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। অনেকেই আছেন মুক্তিযোদ্ধা নামে, কিন্তু কোনো ভূমিকা পালন করেননি। এ রকম বহু লোককে আমরা চিনি। আমাদের জন্ম এই কুষ্টিয়া শহরে। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এখানে উপস্থিত অনেকেরই জন্ম হয়নি।’
নির্বাচনকালে জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে মেহেদী আহমেদ রুমি বলেন, ‘কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসক (ইকবাল হোসেন) নির্বাচনের সময় গাদ্দারি করেছেন। তিনি গাদ্দারি করেছেন, কুমারখালী প্রশাসন গাদ্দারি করেছে, খোকসা প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। কিন্তু সেটা হতে দেয়নি। জানি না আমার অপরাধ কী? একটু কথা বলি, সত্য বলার চেষ্টা করি—এটাই আমার অপরাধ।’
ওই নির্বাচনের ভোট গণনার জন্য হাইকোর্টে মামলা করেছেন জানিয়ে এই প্রার্থী বলেন, ‘হাইকোর্ট গ্রহণ করেছেন। ২৪ জুন শুনানি আছে। আমার বিশ্বাস, ভোট পুনর্গণনা হবে। আমি বিজয়ী হব।’
বক্তব্যের শেষ দিকে মেহেদী আহমেদ রুমি বলেন, ‘আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গভমেন্ট (সরকার) আমাদের। আমি একজন সিনিয়র লোক, ৭৩ বছর বয়স। তিনি (জেলা প্রশাসক) এ রকম কাজ করবেন বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম।’
জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসানের সভাপতিত্বে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম।
প্রসঙ্গত, সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান তিনি। ওই আসনে তাকে পরাজিত করে জয়ী হন জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন।