
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, 'আবরার ফাহাদের চেতনা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হচ্ছে। খুনি হাসিনা এবং শহীদ হাদীর আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট না করলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন না। তার মানে কি?
বিএনপি সরকার আবরার ফাহাদের চেতনাকে ধারণ করে। আমরা ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলছি। অতীতের রাখীবন্ধন ছিন্ন করে আমরা ভারতের সঙ্গে সম্মান এবং মর্যাদার সম্পর্ক গড়তে চাই।'
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, 'বিএনপি সরকার আবরার ফাহাদের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার স্টেডিয়ামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে হল করা হয়েছে। শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে ইনশা আল্লাহ।'
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে এটার স্বীকৃতিও রয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগের অধ্যায় ক্লোজ হয়ে গেছে। নতুন করে বাংলাদেশে আর আওয়ামী লীগ ফেরার সুযোগ নাই। কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলাম সহযোগিতা করছে।'
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামকে উদ্দেশ্য করে রাশেদ খাঁন বলেছেন, 'জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সংকট। জাতীয় সংকটকে পুঁজি করে জামায়াত বা ১১ দলীয় জোট লংমার্চ করছে। এতে দেশে জ্বালানি সংকট আরও বাড়বে। আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করুন। আপনারা যদি এই ভাবে লংমার্চ করেন, রাষ্ট্রকে অশান্ত করেন, তাহলে তো আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে।'
জামায়াত ইসলামকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার ইঙ্গিত দিয়ে 'রাশেদ খাঁন বলেছেন, 'শেখ হাসিনা তো অপেক্ষা করছে। জামায়াত কতদিনে রাষ্ট্রকে অশান্ত করে। জামায়াতের ওপর নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ ফিরে আসার। আওয়ামী লীগ ফিরে আসলে শহিদ আবরার ফাহাদকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। সেইভাবে আমাকে আপনাকে হত্যা করবে। আমার কাছে মনে হয় জামায়াত আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার জন্য এক ধরনের চক্রান্ত করছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ সোচ্চার রয়েছে।'
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন প্রমুখ।