
মেহেরপুর—২(গাংনী) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক এমপি আমজাদ হোসেনের বার্ষিক আয় ৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা, অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৮ টাকা, স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১০ কোটি টাকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মেহেরপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হুলফনামায় তিনি এই তথ্য দিয়েছেন।
আমজাদ হোসেনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে আরও জানা গেছে, তিনি বার্ষিক ৯লাখ ২৬ টাকা আয় করেন, তার মধ্যে কৃষি খাত থেকে ১লাখ ২৭ হাজার ৫শ টাকা , বাড়ি ভাড়া থেকে ৬৩ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৫শ টাকা আয় করেন।
তাঁর হাতে নগদ টাকা রয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৯৯ টাকা, অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ১১ তোলা সোনা যার মূল্য দেখিয়েছেন ২ লাখ ৫২ হাজার ৫শ টাকা, পুরাতন ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্র বাবদ দেখিয়েছেন ৮৮ হাজার ৫শ টাকা, একটি দুইনলা বন্দুক যার মূল্য ৫০ হাজার টাকা এবং একটি পিস্তুল যার মূল্য দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে আনুমানিক অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৬০ লাখ ৪২ হাজার ২৯৯ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত ২৫ বিঘা জমি পেয়েছেন যার মূল্য অজানা উল্লেখ করেছেন, ২৭ শতক কৃষি জমি মূল্য দেখিয়েছেন ২ হাজার টাকা, অকৃষি জমির মধ্যে ঢাকার পূবার্চলে ১০ কাঠা জমির মূল্য দেখিয়েছেন ৩৩ লাখ ১০ হাজার ২০ টাকা, এলাকায় সাড়ে ২৪ শতকের একটি জমি রয়েছে মূল্য দেখিয়েছেন ৯৫ হাজার টাকা, পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত ৩ বিঘা বাড়ির জমির মূল্য দেখাননি।
গাংনী শহরে ৩ তলা বাড়ি যার মূল্য দেখিয়েছেন ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, টিনসেড গোডাউনের মূল্য দেখিয়েছেন ২০ হাজার টাকা। ব্যবসা হিসেবে ইটভাটা দেখিয়েছেন যার মূল্য দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ১০ কোটি টাকা।
স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ১ কোটি টাকা। যার মধ্যে সাড়ে ২৪ শতকের অকৃষি জমি ৯৮ হাজার টাকা, সাড়ে ১২ শতক জমিসহ দুই তলা ভবন ৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। যে গুলো অর্জনকালীন সম্পদ হিসেবে দেখিয়েছেন।
আমজাদ হোসেনের নামে মেহেরপুর পূবালী ব্যাংকে ঋণ আছে ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৮৫১ টাকা। আয়কর বিবরণিতে তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা, মোট সম্পদ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৬৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৮ টাকা। ২০২৫—২৬ অর্থ বছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৮০ হাজার টাকা। আয়কর বিবরণিতে এক সন্তানের বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ টাকা, সন্তানের মোট সম্পদ দেখিয়েছে ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা।
আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা ছিলো। যার মধ্যে একটি থেকে তিনি অব্যহতি পেয়েছেন এবং ৬টি থেকে খালাস পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
প্রসঙ্গত, আমজাদ হোসেনে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর—২ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।


