
আলমডাঙ্গায় বিভিন্ন এনজিও ঋণের কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন গৃহবধূ জামেলা খাতুন (৩৫)।
তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁচামারী গ্রামের কলিমউদ্দিনের মেয়ে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরবেলায় বাড়ির পাশের বাগানের একটি গাছের ডালে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামেলা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল গাংনী উপজেলার এক গ্রামের বাসিন্দা জমিরউদ্দীনের সঙ্গে। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, দরিদ্র জামেলা খাতুন ও তার স্বামী বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চরম ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় তারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। এনজিও কর্মীদের চাপ ও হয়রানির কারণে তারা গাংনী ছেড়ে জামেলার বাবার বাড়ি বাঁচামারী গ্রামে আশ্রয় নেন।
কিন্তু সেখানেও এনজিও কর্মীরা এসে কিস্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করলে ঋণের বিষয়টি বাবা-মা ও গ্রামবাসীর মধ্যে প্রকাশ পায়। লোকলজ্জা ও আত্মসম্মানের চাপে ভেঙে পড়ে জামেলা খাতুন। একপর্যায়ে তিনি সোমবার ভোররাতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এনজিও কর্মীদের চাপ ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী। তারা এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এনজিও সংস্থাগুলোর ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছেন।

