
আলমডাঙ্গায় এলাকাবাসীর কঠোর প্রতিরোধের মুখে মাদক ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ানোর মুচলেকা দিয়েছেন মিনি খাতুন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পৌরসভার স্টেশনপাড়ার বাসিন্দা আলাউদ্দিনের স্ত্রী মিনি খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকাবাসী ও যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অবস্থান নেন। থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাঁরা মাদক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার বিকেল ৪টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌরসভার স্টেশনপাড়া এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মিনি খাতুন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মাদক ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুচলেকা দেন।
এ সময় মিনি খাতুন, তাঁর ছোট বোন কুটিলা খাতুন, মেয়ে মায়া খাতুন, জামাতা আহাদ আলী এবং ছপুর স্ত্রী রিনা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।
মিনির জামাতা আহাদ আলী বলেন, ‘আমরা আর মাদক ব্যবসায় জড়াতে চাই না। সবার মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাই। পরবর্তী সময়ে যেন পুলিশি হয়রানির শিকার না হই, সে জন্য স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার শাশুড়ি অসুস্থ ও বৃদ্ধা। তিনি ঠিকমতো চলাচলও করতে পারেন না। আমাদের নাম ব্যবহার করে অনেকেই নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করে যায়। বিষয়টি সবার নজরে রাখার অনুরোধ করছি।’
এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাজু আহমেদ, পৌর যুবদলের সদস্য লিলি, সজিব ও সজল এবং ছাত্রদলের আকাশ, রাফিদ, স্বপন, রাজন, নাঈম ও আমানসহ অনেকে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাজু আহমেদ বলেন, ‘মিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর কঠোর প্রতিরোধের মুখে তাঁরা মাদক ব্যবসা ছেড়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান। তাঁদের একটি সুযোগ দেওয়া মানবিক দায়িত্ব। তাই তাঁরা মুচলেকা দিয়ে মাদক ব্যবসায় না জড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন।’