
আলমডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ মেলা চলবে। মেলায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা ও তরুণ কৃষি উদ্ভাবকরা তাঁদের নিজ নিজ স্টল প্রদর্শন করছেন।
শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এর আগে মেলা উপলক্ষে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। পরে মেলা চত্বরে উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক দেবাশীষ কুমার দাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওসি (তদন্ত) আজগার আলী, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম মাহমুদুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ, কৃষি উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমান স্বপনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, আলমডাঙ্গায় সব ধরনের ফসলের চাষাবাদ অত্যন্ত ভালো হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তুলনামূলক কম হওয়ায় এ জেলা কৃষিপণ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও পদ্ধতিতে তরুণরা আগ্রহী হচ্ছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা জরুরি। কৃষি প্রযুক্তি মেলার মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নত জাতের ফসল, আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ কৃষি প্রযুক্তি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় মোট ১৬টি স্টল বসানো হয়েছে। উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উদ্ভাবন ও চাষাবাদ কৌশল প্রদর্শন করছেন।
মেলায় পারিবারিক সবজি, পুষ্টি বাগান, নিরাপদ ঔষধি ফসল, নিরাপদ মাশরুম উৎপাদন, ফুল প্রদর্শনী, নিরাপদ উচ্চমূল্যের ফল চাষসহ বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি ও শস্যচিত্র প্রদর্শনের স্টল স্থান পেয়েছে।