
আলমডাঙ্গার বেলগাছীতে চাচাতো দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী গ্রামে আপন চাচাতো দুই ভাই দলবল নিয়ে ধানি জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় প্রশাসন ও থানায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন , বেলগাছী মালিথাপাড়ার ভেকু মালিথার ছেলে রাজু (৩৮) এবং আজিবার মণ্ডলের ছেলে বাবলু রহমান (৪০)।
ভুক্তভোগী পরিবারের বরাতে জানা যায় , দীর্ঘদিন ধরে আজিবার মণ্ডল ও তার ভাই তফেলউদ্দিনের পরিবারের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের স্বজনদের উপস্থিতিতে পারিবারিকভাবে জমি ভাগ-বণ্টন নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু দুই ভাই মারা যাওয়ার পর আবারও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
প্রবাসী মঞ্জু রহমান (তফেলউদ্দিনের ছেলে) অভিযোগ করে বলেন , আমার বাবার নামে রেজিস্ট্রি করা জমি জোর করে দখল করা হয়েছে। আমি বিদেশে থাকায় সেই সুযোগ নেওয়া হয়েছে। জমিগুলো এক বছরের জন্য চাষাবাদের উদ্দেশ্যে অন্যের কাছে বন্দোবস্ত দেওয়া ছিল। তারা ইতোমধ্যে জমি প্রস্তুতও করেছিলেন। কিন্তু আমার চাচাতো ভাই রাজু ও বাবলু দলবল নিয়ে এসে জমি দখল করে নেয়। বাধা দিলে ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি দেয়।
জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বর উল্লেখ করে মঞ্জু রহমান আরও জানান , ৭৮ নং বেলগাছী মৌজার আরএস খতিয়ান নম্বর ২৫৯২-এর দাগ নম্বর ১১৮৯৯ , আরএস খতিয়ান নম্বর ২৫৯৩-এর দাগ নম্বর ১৬১৩২ , ১৬২৫২ ও ১৬৪৪১ এই দাগগুলোর জমি তার বাবার নামে ক্রয়কৃত। তবুও ফুফুদের জমির দাবি তুলে ওই দাগগুলোর জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান , ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা বলেন , উভয় পক্ষের দীর্ঘদিনের এই জমি বিরোধ গ্রামের শান্তি নষ্ট করতে পারে।
স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন , এলাকায় এর আগেও জমি বিরোধ হয়েছে , কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারে। দু’পক্ষের কাউকেই বাড়ি থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছে না। যে কোনো সময় সংঘর্ষ বাঁধতে পারে। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এক কৃষক জানান , ওই জমিতে ইতিমধ্যে চাষের কাজ শুরু হয়েছিল। দখলের পর এখন সব কাজ বন্ধ রয়েছে। চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমরা দ্রুত নিষ্পত্তি চাই , নইলে গ্রামে বড় অশান্তি হতে পারে। আরও কয়েকজন গ্রামবাসী অভিযোগ করেন , রাজু তাদের লোকজন নিয়ে গ্রামে ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
অভিযুক্ত বাবলু ও রাজু আলী সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয়নি এবং বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান , তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানাকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবার আলমডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।