আলমডাঙ্গায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে শ্বশুর–জামাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় তিন প্রতিবেশী। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হলেও ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নিরীহ প্রতিবেশীদের আসামি করে মামলা করায় এলাকায় ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার জাহাপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগদাহ ইউনিয়নের ভেদামারি গ্রামের হবি মোল্লার ছেলে তালেবের সঙ্গে জাহাপুর গ্রামের হারেজ আলীর মেয়ে কাকলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলতে থাকে। একাধিকবার তালাক–পুনর্বিবাহ হলেও শেষ পর্যন্ত তালেব এক মাস আগে কাকলীকে ডিভোর্স দেন। এ ঘটনার পর থেকেই শ্বশুর হারেজ আলী ও জামাই তালেবের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়।
চলতি আমন মৌসুমে হারেজ দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষের সুযোগ দেন জামাই তালেবকে। গত মঙ্গলবার দুপুরে তালেব ওই জমির ধান কাটতে গেলে স্ত্রী কাকলী ও তার বোন শ্যামলী বাঁধা দেন। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে হারেজ ধান কাটা মেশিন নিয়ে জমিতে গেলে খবর পেয়ে তালেব লোকজন নিয়ে সেখানে পৌঁছান। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অন্যদিকে, জমি নিয়ে হারেজ আলীর সঙ্গে প্রতিবেশী আব্দুল হান্নান, দেলোয়ার ও মোশারেফসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে এক একর ৫৭ শতক জমি নিয়ে মামলা হলেও ২০০১ সালে আদালত তা নিষ্পত্তি করে। এরপর ২০১৫ সালে হারেজ পুনরায় একই জমি নিয়ে মামলা করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবারের শ্বশুর–জামাই সংঘর্ষ ছিল সম্পূর্ণ পারিবারিক বিষয়। অথচ সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জমি বিরোধের সুযোগে প্রতিবেশী হান্নান, দেলোয়ার ও মোশারেফকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, হারেজ আলী ও তার পরিবার দুধর্ষ স্বভাবের। তারা অতীতেও বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করেছেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে সমালোচনা চলছে।