
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবাগত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ পান্না আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ লুৎফুন নাহার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের কাজের নানাবিধ ক্ষেত্র রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমসমূহ সমন্বয় করা এবং সেগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা জেলা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। এছাড়া রাজস্ব আদায়েও প্রশাসন কাজ করে থাকে। রাজস্ব থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সেবা প্রদানের ব্যয় নির্বাহ করে। তাই অভ্যন্তরীণ রাজস্ব ব্যবস্থা সুসংহত করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে কাজ করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হলেও মাদকের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি। মাদক আমাদের দেশের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সন্তানদের প্রতি নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে সাংবাদিকরা কাজ করেন। সার্বিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের আয়না উন্নয়ন ও সুশাসনের পথে আপনাদের সমর্থন ও পরামর্শ চুয়াডাঙ্গাকে এগিয়ে নিতে বড় শক্তি হয়ে উঠবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল মোঃ শফিউল্লাহ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাগর দে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার, থানা অফিসার ইনচার্জ বাণী ইসরাইল, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন।
এছাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, তথ্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জেলা জামায়াতের আইন-আদালত বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমির প্রভাষক শফিউল আলম বকুল, সেক্রেটারি মামুন রেজা, ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন লাড্ডু, ব্যায়ামাগারের সভাপতি ইকবাল হোসেন, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সমাজকর্মী মুসাফ ইবনে সাফায়েতসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যমকর্মীরাও সভায় অংশগ্রহণ করেন।