
আলমডাঙ্গায় পাখিভ্যান চুরির অভিযোগে দুদু (২২) নামে এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। নিহত দুদু আলমডাঙ্গা উপজেলার আসাননগর গ্রামের মিজানুরের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। তার এক সন্তানের বয়স মাত্র ৪ মাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাউসপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে অন্তুর একটি ভ্যান গত শুক্রবার রাতে চুরি হয়। এ ঘটনায় দুদুর বিরুদ্ধে সন্দেহ করা হলে রোববার সকালে সুমন, আশিক, বায়োজিদ, রফিক ও শাকিলসহ কয়েকজন দুদুর বাড়িতে গিয়ে তার মাকে হুমকি দেয়। তারা বলে, “যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই হত্যা করা হবে।”
অভিযোগ রয়েছে, রোববার রাত ৯টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে দুদুকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে আলমডাঙ্গার হাউসপুর এলাকার শরিফুলের ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর অভিযুক্তরা কৌশলে মরদেহটি হাউসপুর বটতলা এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে রাত ১১টার দিকে আলমডাঙ্গার হাউসপুর ব্রিজের নিচ থেকে দুদুর মরদেহ উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে স্থানীয় সচেতন মহল মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত বর্বরতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, গত শুক্রবার দুদুর বাড়িতে চারজন যুবক গিয়ে তাকে মৃত্যুর হুমকি দেয়। তারা বলে, “ভ্যান চুরি করেছিস, খুঁজে না পেলে তোকে মেরে দেবো।”
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো অপরাধের বিচার আইনের মাধ্যমেই হতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”