
পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর আলমডাঙ্গায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তারের মানবিক উদ্যোগে প্রতারণার শিকার কিশোর রাকিবের পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি পোয়ামারি গ্রামের কিশোর রাকিব (১৪) প্রতারণার শিকার হয়ে তার একমাত্র আয়ের উৎস পাখিভ্যান প্রতারক চক্রের হাত থেকে হারিয়ে ফেলে। পাখিভ্যান হারানোর পর রাকিবের পরিবার সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়ে। এই ঘটনা স্থানীয় দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিনসহ কয়েকটি আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ইউএনও পান্না আক্তারের নজরে আসে।
রবিবার বিকেল ৩টার সময় ইউএনও পান্না আক্তারের কক্ষে ভুক্তভোগী পরিবারকে ডেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
পরিবারটি এই সহায়তা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। ইউএনও শুধু আর্থিক সহায়তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের মানসিক সাহসও বাড়িয়েছেন।
পান্না আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা যদি এমন অসহায় মানুষের সন্ধান পান, অবশ্যই নিউজ করবেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে জানাবেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা কোনো অবস্থাতেই এই দায়িত্ব এড়াতে পারি না। প্রতারণার মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া পাখিভ্যান উদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রতারণার চক্র সনাক্ত করা হয়েছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিভাবক রোজিনা বলেন, “স্যারের সরাসরি সহায়তা আমাদের জন্য এক আশার আলো। তিনি শুধু অর্থ দিয়ে সাহায্য করেননি, আমাদের মানসিক শক্তিও দিয়েছেন।” এই ঘটনার মাধ্যমে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের এক নজির স্থাপন হয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

