
আলমডাঙ্গায় প্রভাষকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের রোয়াকুলি গ্রামে এক প্রভাষকের বাড়িতে সংঘটিত আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল গভীর রাতে রোয়াকুলি গ্রামের প্রভাষক মো. শামসুল আলমের বসতবাড়িতে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। এ সময় ডাকাতরা নগদ ২০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে কানের দুল, চুড়ি, চেইন ও নাকফুল ছিল।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এবং আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর এলাকার দক্ষিণপাড়া চাষীক্লাব সড়ক এলাকা থেকে বড় বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. সালাউদ্দিনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের জলিল মোল্লা ওরফে ছুকার ছেলে মো. ছাবদুল ওরফে ছাবদুল্লাহকে (৫০) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই অভিযানে আলমডাঙ্গা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মো. আমজাদ হোসেনের ছেলে (পালক পিতা মো. সাবদুল আহম্মেদ) মো. আকাশ আহম্মেদকে (২১) নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ছাবদুল ওরফে ছাবদুল্লাহ এবং আকাশ আহম্মেদ ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
এদিকে গ্রেপ্তারকৃত ছাবদুল ওরফে ছাবদুল্লাহর দেখানো মতে আলমডাঙ্গা উপজেলার গোবিন্দপুর মাঠপাড়া এলাকায় আমিরুল সর্দারের বাড়ির সামনে পাকা সড়কের পশ্চিম পাশে একটি জঙ্গল থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে দুটি সুচালো প্রান্তযুক্ত লোহার রড এবং একটি লোহার তৈরি প্লাস।
পুলিশের দাবি, উদ্ধারকৃত এসব সরঞ্জাম ডাকাতির সময় ব্যবহৃত হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।