
আলমডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক জলাভূমি দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করেছে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থা। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল— “জলাভূমি ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন”।
গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলা মুক্ত মঞ্চ থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে পদযাত্রার মাধ্যমে আল-তাইয়েবা মোড়ে এসে পথসভায় পরিণত হয়। পথসভায় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত রহমানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান। তিনি তাঁর বক্তব্যে আলমডাঙ্গার মৃত্যপ্রায় কুমার নদের বেহাল দশা তুলে ধরেন এবং দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জনাব এস. এম. মাহামুদুল হাসান বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, জলাশয় বিলুপ্ত হলে প্রাণীকুল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
এরপর সংগঠনের সভাপতি সাঈদ এম. হিরন স্মারকলিপি পাঠ করেন। স্মারকলিপি পাঠ শেষে র্যালিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাবা পান্না আক্তার উপস্থিত থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং জলাভূমি সংরক্ষণ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জলাভূমি ধ্বংস হলে জীববৈচিত্র্য বিলীন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি কুমার নদে অবৈধ বাঁধ অপসারণের অঙ্গীকার করেন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতেও সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পথসভায় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, জলাভূমি শুধু পানি বা মাছের উৎস নয়—এটি আমাদের সংস্কৃতি, জীবিকা ও জীববৈচিত্র্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জলাভূমি ধ্বংস মানেই কৃষি, মৎস্য, পাখি ও মানুষের জীবনের ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি বলেন, আলমডাঙ্গার নদ-নদী ও বিলগুলো আজ দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। জলাভূমি রক্ষায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক আমিরুল ইসলাম জয়, আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধি, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংগঠনের সকল সদস্য।