
আলমডাঙ্গায় শীত মৌসুমে শিশুদের ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে এতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য প্রশাসন।
রবিবার আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মোট ১১ জন শিশু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে জানা গেছে, শীতকালে শিশুদের পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া সাধারণত রোটা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। এ সময় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার বলেন, “ডায়রিয়া প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ খাবার গ্রহণ এবং রোটা ভাইরাসের টিকা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঘন ঘন খাবার স্যালাইন, ভাতের মাড়, ডাবের পানি, টক দই দেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জিংক সেবন করাতে হবে এবং পানিশূন্যতা এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি আরও জানান, শীতকালে রোটা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, যা শিশুদের ডায়রিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে চিকিৎসক নাজমুন নাহার কনা বলেন, “অপরিষ্কার খাবার ও দূষিত পানি বিশেষ করে বাইরের খাবার থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। যদি দিনে তিন বারের বেশি পানির মতো পাতলা পায়খানা হয় এবং এর সঙ্গে বমি, হালকা জ্বর, চোখ বসে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা কান্নার সময় চোখে পানি না আসে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিবার পায়খানার পর বয়স অনুযায়ী খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, ডাবের পানি, টক দই, ঘোল, ফলের রস, লবণ-গুড়ের শরবতসহ তরল খাবার দিতে হবে। শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়াতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে জিংক ট্যাবলেট বা সিরাপ সেবন করাতে হবে। পানিশূন্যতা বেশি হলে বা অবস্থা খারাপ হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তরিকুল ইসলাম বলেন, “চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি।”

