
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের টেপারগাড়া মাঠজুড়ে ভুট্টা ক্ষেতে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। সময়মতো পরিচর্যা করেও অধিকাংশ গাছে শিষ আসেনি। এতে শতাধিক কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভেজাল বীজের কারণেই এ বিপর্যয়।
জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক তানজেল রহমান জানান, স্থানীয় বাজারের এক বিক্রেতার কাছ থেকে ভুট্টার বীজ কিনে দেড় বিঘা জমিতে সাড়ে তিন মাস আগে বপন করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী পরিচর্যা করলেও গাছ স্বাভাবিকভাবে বড় হয়নি। এখনো অধিকাংশ গাছে শিষ বের হয়নি, আর যেগুলো হয়েছে সেগুলোও নিম্নমানের।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, টেপারগাড়া মাঠের বিস্তীর্ণ এলাকায় একই চিত্র। শতাধিক কৃষকের প্রায় আড়াই শতাধিক বিঘা জমির ভুট্টা ক্ষেতে গাছ খর্বাকৃতির, অনেক গাছে শিষই নেই। ফলে উৎপাদন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন কৃষকেরা।
ভুক্তভোগী কৃষকদের ভাষ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে আলমডাঙ্গা পৌর শহরের কালিদাসপুর সাদা ব্রিজ এলাকার ‘কৃষি পল্লী সিড স্টোর’ নামের একটি দোকান থেকে তাঁরা ‘নসিব এগ্রো-৪০৫৫’ নামের উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার বীজ সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ তিন মাস পরিচর্যার পরও গাছে শিষ না আসায় তাঁরা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জমি চাষ, সার, সেচ ও শ্রম খরচসহ প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেও আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন না।
একই গ্রামের কৃষক মো. ওমর উদ্দিন বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। গাছ ভালো হলেও শিষ আসেনি। প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করেছি। ফলন তো দূরের কথা, পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করার মতো কিছু পাইনি।”
কৃষক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “বীজের দোকানদার বলেছিলেন, এটি উন্নত জাতের বীজ, ফলন ভালো হবে। কৃষি অফিস থেকেও প্রদর্শনী প্লট হিসেবে বীজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা প্রতারিত হয়েছি। এই বীজে কোনো ফলন আসেনি।”
একই গ্রামের সালেহা খাতুন বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর নিজেই চাষাবাদ করে সন্তানদের লালন–পালন করছি। কিন্তু এবার ভেজাল বীজে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। গাছ বড় হয়নি, শিষও ছোট। যেখানে বিঘাপ্রতি ৪০ মণ ফলন হওয়ার কথা, সেখানে দুই মণও হবে না।”
ভুক্তভোগী কৃষকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পারভেজ মঙ্গলবার দুপুরে টেপারগাড়া মাঠের ভুট্টা ক্ষেত পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।