
আলমডাঙ্গায় মাদকের দুর্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হানা দিয়ে মাদকরানী নামে খ্যাত মিন্নির ২বছর কারাদণ্ড দিয়েছে। সেই সাথে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়।
আলমডাঙ্গা ‘মাদকরানী’ নামে অতিপরিচিত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মিন্নিকে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন আলমডাঙ্গা থানার এসআই সোহাগ-এর নেতৃত্বাধীন চৌকস পুলিশ টিম।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে মিন্নির নিজ বাড়ি থেকে ১৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, একটি মোবাইল ফোন এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়। আসামির স্বীকারোক্তি ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে দণ্ড প্রদান করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্টেশনপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল মিন্নি। একাধিক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সে পুরো এলাকাকে মাদকের আখড়ায় পরিণত করে তোলে। ফলে এলাকায় মাদকাসক্তি ও অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠে তার ব্যবসায়ীক অংশীদার। রাতারাতি নাম হয়ে ওঠে মাদক রানী।এছাড়াও তার এই মাদক ব্যাবসায়ীতে তার ছোট জামাই আহাদ আলি সকল অপকর্ম দেখভাল করে আসছে।মিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন এলাকায় মাদকের অভয়ারণ্যে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর কিছু দিন আগেও এসআই সোহাগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে প্রায় আধা কিলোমিটার দৌড়ে মিনির মেয়ে ‘আলোমতি’ নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে এলাকায় প্রশংসা কুড়ান। এছাড়াও ড্রাইভার আব্দুল্লাহ আল আমিন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসামির পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী বলেন,“যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের একটি টিম ও মোবাইল কোর্টের বেঞ্চ সহকারী তারিকুল ইসলাম।