
আলমডাঙ্গা উপজেলায় মাদকবিরোধী ও ওয়ারেন্টভুক্ত বিশেষ অভিযানে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৃথক এসব অভিযানে ট্যাপেন্টাডল, ইয়াবা, গাঁজা, গাঁজা সেবনের সরঞ্জাম ও দুটি চোরাই ছাগল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকসেবন, মাদক বহন, চোরাই ছাগলসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও পুরোনো মামলার আসামি রয়েছেন।
গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আলমডাঙ্গার আনন্দধাম এলাকার হৃদয় অধিকারী (২২), শাহ পাভেল (২৩), কুষ্টিয়ার বড়বাজার বেড়িবাঁধ এলাকার ফারুক মিয়া (৫৫), রাধিকাগঞ্জের আব্দুর রাজ্জাক (৫০), কলেজপাড়ার মাহফুজুর রহমান (৩৫), বাবুপাড়ার শাকিল আহম্মেদ (৩৬), পৌর কাঁচাবাজারপাড়ার আমান উল্লাহ আল আমিন (৩২), মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কোদালকাটি পূর্বপাড়ার জুয়েল হোসেন (২৬), সনাতনপুর গ্রামের সাব্বির হোসেন ওরফে আকাশ (২৮), বেলগাছি গ্রামের ওল্টু (৩২) এবং দামুড়হুদা উপজেলার মাছুম বিল্লাহ ওরফে আকাশ উদ্দিন (৩৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযানে গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এসআই তাইজুল ইসলামের নেতৃত্বে পৌরসভার স্টেশনপাড়ার নুরুমিয়ার মার্কেটের ভেতরে অভিযান চালিয়ে হৃদয় অধিকারী ও শাহ পাভেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের সামারি ট্রায়াল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়।
একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এসআই শাহরিয়ার হুসাইন রুবেলের নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়ার বড়বাজার বেড়িবাঁধ এলাকার ফারুক মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে দুটি চোরাই ছাগল উদ্ধার করা হয়েছে। তাকেও সামারি ট্রায়াল কোর্টের মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের এসআই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পৌরসভার বাবুপাড়ায় স্টেডিয়াম মাঠের পূর্ব পাশের গ্যালারির দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে গাঁজা সেবনের সময় আব্দুর রাজ্জাক, মাহফুজুর রহমান, শাকিল আহম্মেদ ও আমান উল্লাহ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় এক পুরিয়া গাঁজা ও গাঁজা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
একই রাতে ১১টার দিকে এসআই শাহরিয়ার হুসাইন রুবেলের নেতৃত্বে বড় বোয়ালিয়া মিলবাজারে একটি টেলকম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুয়েল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে দুই পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের এসআই শ্রী মানিক কুমার শিকদারের নেতৃত্বে সনাতনপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ওরফে মধুর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাঁর ছেলে সাব্বির হোসেন ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে দুই পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, আলমডাঙ্গা থানার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত বেলগাছি গ্রামের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী ওল্টু এবং পুরোনো মামলার আসামি দামুড়হুদা উপজেলার মাছুম বিল্লাহ ওরফে আকাশ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, “মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে। যেখানেই মাদক বা অপরাধের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ আরও কঠোরভাবে কাজ করবে।”