
“আর মাদক ব্যবসা করব না, সৎ পথে ফিরতে পুলিশের সহযোগিতা চাই” এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মিনি খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা।
একসময় মাদক ব্যবসার অভিযোগে আলোচিত আলমডাঙ্গা পৌর শহরের স্টেশনপাড়ার মিনি খাতুন ও তার পরিবার এখন সেই পরিচয় থেকে বেরিয়ে আসতে চান। তাদের দাবি, তারা আর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অতীতের পথ ছেড়ে সৎভাবে উপার্জন করে
স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান তারা। নতুন জীবনের পথে পুলিশের সহযোগিতাও চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন মিনি খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা মুচলেকাও দেন। এরপর প্রায় এক মাস ধরে মাদক থেকে দূরে থাকার দাবি করছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, মাদক ব্যবসা ছেড়ে বর্তমানে মিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন। এ সময়ে তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মাদক সংশ্লিষ্টতার কোনো ঘটনা সামনে আসেনি বলেও দাবি স্থানীয়দের।
তবে অতীতের অভিযোগের কারণে পরিবারটির বর্তমান অবস্থান নিয়েও এলাকায় কৌতূহল রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, মাদক থেকে সরে আসার ঘোষণা ইতিবাচক হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে কি না, সেটি পর্যবেক্ষণের বিষয়। কারণ, অতীতে মাদক ব্যবসার অভিযোগে আলোচনায় থাকা কোনো পরিবারের ক্ষেত্রে শুধু অঙ্গীকার নয়, বাস্তব পরিবর্তনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মিনি খাতুন বলেন, “আমরা মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। আর কখনো মাদক ব্যবসা করব না। সৎভাবে কাজ করে জীবিকা চালাতে চাই। অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চাই। এ জন্য পুলিশের সহযোগিতা চাই। আমাদের যেন অযথা হয়রানি করা না হয়।”
পরিবারটির দাবি, পুরোনো পথ আর তাদের কাম্য নয়। মাদক ব্যবসার অভিযোগের পরিচয় পেছনে ফেলে তারা সমাজে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে চান। সৎভাবে উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের জীবন চালানোর প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, পরিবারটি সত্যিই মাদক ব্যবসা থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে অতীতে তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ কিংবা মামলার বর্তমান অবস্থাও পরিষ্কার হওয়া দরকার।
মিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, স্পষ্টতই তারা আর পুরোনো পথে ফিরতে চান না। মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সৎ পথে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করতে চান তারা। সেই নতুন পথচলায় পুলিশের সহযোগিতা ও সমাজে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ চান পরিবারের সদস্যরা।