
আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে বছরের প্রথম দিনে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির কারণে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই আলমডাঙ্গা উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে ২০২৬ সালের বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বই বিতরণ কর্মসূচিতে শত শত শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আসানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা নিজ নিজ ক্লাস্টারে বই বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন।
নতুন বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্য। রঙিন মলাটের নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীরা জানায়, বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই পাওয়ায় তারা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও আগ্রহী হয়ে উঠবে।
বই বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এস.এম শাহনেওয়াজ মেহেদী, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন, সহকারী শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারিস উদ্দিন, আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন এটমসহ অন্যান্যরা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, নতুন পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের প্রথম ধাপ। নিয়মিত অধ্যয়ন ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের আদর্শ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন শিক্ষার্থীদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।
এছাড়াও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বই বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, সরকারের নির্দেশনা ও জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।