
আলমডাঙ্গা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ি থেকে বের হওয়া, মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। এবি বাড়ির রাস্তা থেকে আলমডাঙ্গা বিদ্যুৎ অফিস পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পানি জমে হাঁটুপানিতে পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের পাশের বাড়ির প্রবেশপথেও পানি জমে রয়েছে। ফলে স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। বৃষ্টি থেমে গেলেও দিনের পর দিন সড়কে পানি জমে থাকে। নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পৌর প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকাতেও বেহাল সড়ক ও জলাবদ্ধতার কারণে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ভাঙাচোরা সড়কের খানাখন্দে পানি জমে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
এরশাদপুর চাতালমোড় থেকে আলমডাঙ্গা কলেজ মোড় পর্যন্ত সড়কটির অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার সংস্কারের উদ্যোগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া হলেও মাঠপর্যায়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এরশাদপুর চাতালমোড় থেকে কলেজ মোড় পর্যন্ত সড়কটির টেন্ডার নিয়ে জটিলতার কারণে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এ কারণে সড়কটির সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া আলমডাঙ্গা মাছ বাজারের আলিফ উদ্দিন রোডেও সব সময় পানি জমে থাকে। এতে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তির অন্ত নেই।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বেহাল সড়কগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে চলমান আইনি ও টেন্ডার জটিলতা দ্রুত নিরসন করে সংশ্লিষ্ট সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।