
আলমডাঙ্গার অনুপনগরে আরশোলা দেখে চিৎকার করার অপরাধে ক্ষোভে অন্তত ৮ শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনার বিচার দাবিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের অনুপনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। এ ঘটনায় গভীর রাত পর্যন্ত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার বিচারের দাবিতে অবস্থান নেয়।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার জানায়, গত ১১ এপ্রিল সকালে পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলে যায়। স্কুল শুরু হওয়ার আগেই শ্রেণিকক্ষে তেলাপোকা দেখে ভয়ে চিৎকার করে তারা। এতে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে অন্তত আটজন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয় বলে জানান অভিভাবকেরা।
ঘটনাটি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা বলেন, ছোট শিশুদের পড়াশোনার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়, কিন্তু সেখানে এমন শারীরিক শাস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের আমি নিজের সন্তানের মতো দেখি। শাসন করতে গিয়ে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, তিনি আগে বিষয়টি জানতেন না। পরে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তদন্তের জন্য সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বকতিয়ার উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বকতিয়ার উদ্দিন বলেন, তিনি এখনো বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।