
আলমডাঙ্গায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দশম শ্রেণির ছাত্র নাহিদ ইসলাম (১৫)। চিকিৎসার পথে নিভে গেল এক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর জীবন।
ঘটনাটি ঘটেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের খোরদ গ্রামে। এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে নিহতের পরিবারসহ পুরো এলাকা।
নিহত নাহিদ ইসলাম হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং খোরদ গ্রামের মালিতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের সেজো ছেলে।
গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাটবোয়ালিয়া-ভালাইপুর সড়কের খোরদ ঈদগা মোড় সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একটি চলন্ত আখবোঝাই ট্রলি থেকে আখ টানতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভারসাম্য হারিয়ে নাহিদ সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে নেওয়ার পথে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নাহিদের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিবারে নেমে আসে শোকের মাতম। কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা ও স্বজনরা। একই সঙ্গে তার সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও গভীর শোক ও বেদনার আবহ বিরাজ করছে।
রবিবার সকালে হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে রবিবার বেলা ১১টার দিকে খোরদ কবরস্থানে নাহিদ ইসলামের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানায়, ঘটনায় কোনো বাদী না থাকায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও গ্রামীণ সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল ও সচেতনতার অভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। নিহত নাহিদ ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।