
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার বেলগাছীতে জমি দখলকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী গ্রামে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে পাল্টা আইনি কাগজপত্র দেখিয়েছেন অভিযুক্ত বাবলু রহমান, রাজু ও বিল্লাল। তারা জানান, বিরোধপূর্ণ জমির কিছু অংশ তাদের ফুফুদের কাছ থেকে দলিলমূলে কিনেছেন তাদের বাবা। অন্যদিকে, অভিযোগকারী মঞ্জু রহমান ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলে তাদের দাবি।
বুধবার সরেজমিনে অভিযুক্ত তিনজন সাংবাদিকদের কাছে দলিলের কপি ও ভূমি অফিসের রেকর্ড দেখান। তারা জানান, তাদের ফুফু সাহারন নেছা ও বাহারন নেছা যথাক্রমে ১৯৯৯ ও ১৯৯৫ সালে নিজেদের ভাই ভেকু মালিথা ও আজিমউদ্দিন মালিথার কাছে ফারাজি জমি বিক্রি করেন। এ বিক্রয়সংক্রান্ত আলাদা দুটি দলিল তাদের কাছে রয়েছে।
অভিযুক্তরা বলেন, ফুফুদের কাছ থেকে কেনা জমি দীর্ঘদিন ধরে তফেলউদ্দিনের ছেলে মঞ্জু ও তার চার বোন ভোগ করে আসছেন। তারা ভূমি অফিস থেকে খতিয়ান, দাগ নম্বর ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করে নিজেদের ন্যায্য দাবি জানিয়েছেন। কাগজপত্র যাচাই করলেই বোঝা যাবে, তারা কারও জমি দখল করতে যাননি।
তারা জেএল-৭৮ নম্বর বেলগাছী মৌজার আরএস রেকর্ডের বরাত দিয়ে জানান, খতিয়ান নম্বর ২৫৯২-তে দাগ নম্বর ১১৮৯৯-এ ২৯ শতক এবং একই মৌজার খতিয়ান নম্বর ২৫৯৩-তে দাগ নম্বর ১৬১৩২, ১৬২৫২ ও ১৬৪৪১-এ যথাক্রমে ৪৮, ৫১ ও ২৩ শতক জমির মধ্যে তাদের কেনা অংশ রয়েছে। খতিয়ান নম্বর ২৫৯২-তে আরও ১০টি দাগে তাদের ক্রয়কৃত জমি থাকলেও সেসব মঞ্জু ও তার পরিবার ভোগ করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ প্রসঙ্গে ভেকু মালিথার ছেলে রাজু এবং আজিমউদ্দিন মালিথার ছেলে বাবলু-বিল্লাল বলেন, “আমরা কাগজপত্র দেখিয়ে নিজেদের অধিকার চাইতে গেলে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে এবং অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ভূমি রেকর্ড ও দলিল যাচাই করে সুষ্ঠু নিষ্পত্তির দাবি জানাই।”
অভিযোগকারী মঞ্জু রহমান আগে বলেছিলেন, বাবলু, রাজু ও বিল্লাল তার জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। তবে অভিযুক্তরা সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উভয় পক্ষের দলিল, খতিয়ান ও ভূমি রেকর্ড যাচাই-বাছাই করলেই প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ভূমি বিরোধের নিষ্পত্তি সংশ্লিষ্ট দলিলের বৈধতা ও ভূমি অফিসের রেকর্ডের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্ভব। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা ভূমি অফিস থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।