
দামুড়হুদা মডেল থানা এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে চুরি সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা। ফলে চরমভাবে অবনতি হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিগত অক্টোবর-২০২৫ থেকে এলাকায় ছোট-বড় বেশ কয়েকটি চুরি, ছিনতায় ও ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল সহ ভুক্তভোগীরা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হবার আহ্বান উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের। গত ২ জানুয়ারি দিবাগত রাতে থানা এলাকাযর চিৎলা টু জুড়ানপুর সড়কে দুটি দোকানে চুরি সংগঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় প্রতিনিয়তই এ সকল ভয়াবহ চুরির ঘটনায় মাদকদ্রব্যের অবাধ ব্যবহার ও বিচরণকে দায়ী করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ, সংবাদ কর্মী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, দিনমজুর সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
দামুড়হুদা মডেল থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে ও স্থানীয় একাধিক শ্রেণী পেশার সচেতন মহলের ভাস্যমতে উল্লেখিত বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা তাদের চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে থানাতে লিখিত অভিযোগ করলেও আজও পর্যন্ত জড়িত অপরাধীদেরকে আটক কিংবা চুরি যাওয়া মালামাল এখনো পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি থানা পুলিশ। স্থানীয়রা চুরির এ সকল ঘটনায় অবাধ মাদক ব্যবসায়ী ও প্রবণতাকে দায়ী করছেন।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের তথ্য মতে,উপজেলার মডেল থানা এলাকায় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর-২০২৫ পর্যন্ত বেশ কিছু ছোট-বড় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতের ঘটনা ঘটেছেন বলে খবর পাওয়া যায়।যার মধ্যে একাধিক দুঃসাহসিক চুরি’র ঘটনা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে-১৬ অক্টোবর দামুড়হুদা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার তারেফ ফল ভান্ডারে রাতের আঁধারে তালাবদ্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে ১২ হাজার ৫’শ টাকার বিভিন্ন মালামাল চুরি’র ঘটনা ঘটে,১১ ই নভেম্বর দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের গোবিন্দহুদা গ্রামের সরকারি চাকরিজীবী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও স্কুল শিক্ষিকা দম্পতির তালাবদ্ধ বাসভবনের ভেঙে প্রায় চার লাখ টাকার স্বর্ণালংকার সহ নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র,২০ ডিসেম্বর উপজেলার হাউলী ইউনিয়নে দিনের আলোতে ভুক্তভোগী শ্রী চন্দন কুমার বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তির ব্যবহৃত চুয়াডাঙ্গা ল: ১২-১২৬৯ নম্বর রেজিস্ট্রেশনের ২ লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল, ২৯ ডিসেম্বর রাতে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের মুন্সিপুর সীমান্তবর্তী গ্রামের সুরাত আলী নামের এক ভুক্তভোগীর পরিবারের বসত বাড়ির তালা ভেঙ্গে জমি বিক্রয়ের প্রায় ৭ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্রের সদস্যরা।
সর্বশেষ চলতি জানুয়ারি মাসের ২ তারিখে দিবাগত রাতে থানা এলাকার চিৎলা টু জুরানপুর পাকা সড়কের পাশে খাদিজা স্টোর নামের এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে চুরির ঘটনা ঘটে।প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই চুরির ঘটনায় তার দোকানে থাকা নগদ ৪ হাজার ৫’ শ ঢাকা সহ সর্বমোট ২০ হাজার ৫’ শ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল।
একই সড়কে একই দিনে সুমন ফল ভান্ডার নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও নগদ ১৩ হাজার টাকা সহ দোকানে থাকা বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র।এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সুমন আলী জানিয়েছেন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকাসহ সর্বমোট ২৭ হাজার ৮’ শ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।এক রাতে দুইটা চুরির ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী মহলের অনেকেই।
প্রাপ্ত অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, দুটি থানা এলাকা নিয়ে দামুড়হুদা উপজেলা গঠিত। যার একটি দামুড়হুদা মডেল থানা এলাকা অপরটি দর্শনা থানা এলাকা। যার মধ্যে দামুড়হুদা মডেল থানা এলাকা ৫ টি ইউনিয়ন দামুড়হুদা সদর, হাউলি, জুরানপুর, নাটুদহ ও সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এছাড়াও প্রায় ১০দিন আগে থানা এলাকার কার্পাসডাঙ্গা টু কুতুবপুর সড়কে প্রায় ৪/৫ জন যাত্রী বেঁধে রেখে ডাকাত দলের সদস্যরা নগদ টাকা সহ স্বর্ণালংকার লুট করে নেন। এছাড়াও,থানা এলাকার উল্লেখিত ইউনিয়ন সমূহের কোন না কোন গ্রামে প্রায় প্রতিনিয়ত ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটছে বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়। এ সময় গৃহপালিত পশু ছাগল,সাংসারিক আসবাবপত্র, অসহায় দিনমজুর পরিবারগুলোর বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল পাখি ভ্যান চুরি’র ঘটনা ঘটছে। এদের আবার বেশিরভাগই ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করছেন না বলেও জানা যায়।
অনুসন্ধান আরও বলছে, দামুড়হুদা থানা অন্তর্গত ইউনিয়ন গুলোর প্রায় প্রতিটি পাড়া মহল্লায় মাদকের অবাধ বিচরণের ভয়াবহ প্রবণতার বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে সন্তানদের আগামীর ভবিষ্যতের জন্য চিন্তিত।সচেতন মহল্লা বাসী ও অভিভাবকদের অনেকের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে পাড়া মহল্লার অলি গলিতে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় থেকে মাদকদ্রব্য তুলে দিচ্ছেন তরুণ কৃষক ও যুব সমাজের হাতে।দামুড়হুদা উপজেলা সদর সহ দামুড়হুদা মডেল থানা এলাকার সকল ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রাম সহ আশপাশ পাড়া মহল্লায় প্রায় ২০০ টির মত মাদকের স্পটে নিয়মিত অবাধে মাদক বিক্রি করছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাদক বিক্রেতারা। এসকল মাদক স্পট গুলোতে মাদকদ্রব্য সেবনের জন্য ক্রয় করতে আসা প্রত্যেকের বয়স বেশিরভাগ ১৫-৩০ বছরের মধ্যে, তবে সবচেয়ে বেশি মাদকদ্রব্য ক্রয় ও সেবনে উদ্বেগ জনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে কিশোর তরুণ যুবসমাজ,যাদের প্রত্যেকের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। সকল মাদকের আঁকড়ায় ফেনসিডিলের পরিবর্তে আসা বিভিন্ন নেশা জাতীয় স্রাব, হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা ও বাংলা মদ বিক্রি করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের একাধিক সূত্রে অভিযোগ রয়েছে।
অবাদে মাদক বিক্রি ও প্রসারের ফলেই থানা এলাকায় বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধার কিংবা দিনের বেলাতে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অনেকে আবার মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানা পুলিশ সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ না থাকাকেই দায়ী করছেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সচেতন সচেতন মহল।
দামুড়হুদা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খুবই ভয়াবহ অবস্থা।সামাজিক পেক্ষাপটে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরকে আরো তৎপর হতে হবে। বিশেষ করে মাদকের বিষয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে।
মাদক থেকেই সকল ধরনের অপরাধের সূত্রপাত ঘটে।তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সামজিক সচেতনা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরী।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আমরা এ বিষয়ে কার্যক্রম করতেছি। ইতিমধ্যেই কিছু চোর ধরে আমরা জেল হাজতে প্রেরণ করেছি। এছাড়াও যে চুরির ঘটনা ঘটছে তা আমরা শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।


