
চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পথে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে গ্রেপ্তার হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের মেহেরপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম. এ. খালেক।
বৃহস্পতিবার সকালে ইমিগ্রেশন পুলিশের সন্দেহের পর গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর মেহেরপুর থেকে আসা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
এম. এ. খালেকের ছেলে আসিফ রেজা বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার হার্টে ব্লক রয়েছে। বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য তাকে ভারতে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ইমিগ্রেশনে তাকে আটকে দেওয়া হয়। আমার জানামতে, আমার বাবার নামে কোনো নিয়মিত মামলা নেই। যে কয়টি মামলা রয়েছে, সেগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন।’
ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্রে জানা যায়, এম. এ. খালেক চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে আসেন। এ সময় তার কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মেহেরপুরের গাংনীতে তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়। এতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে গাংনী থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সাব-ইন্সপেক্টর মো. তারিক জানান, এম. এ. খালেকের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা থাকায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এম. এ. খালেকের বিরুদ্ধে গাংনী থানায় ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল একটি মামলা হয়। গাংনী থানার মামলা নম্বর ১৫। বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩)/২৫ডি ধারায় করা ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার এম. এ. খালেকের পিতার নাম মোজাহার আলী বিশ্বাস। তার বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী বাজারের থানা রোড এলাকায়। তিনি মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. জামিনুর রহমান খান বলেন, “দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে আমাদের বিষয়টি জানানো হয়। পরে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে মেহেরপুরে নিয়ে আসে।”