
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলাগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জালনোট চক্র। ঈদের আগে বাজারে লেনদেন বাড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসব চক্র জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এসব চক্র অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালনোট তৈরি করছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে শনাক্ত করা কঠিন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে।
জানা গেছে, জালনোটের কারবার এখন আর পাড়া-মহল্লার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও চলছে এ টাকার রমরমা ব্যবসা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে খোলা হয়েছে শতাধিক পেজ। এসব পেজে দেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের অফার। লোভনীয় এসব অফারে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে সংঘবদ্ধ চক্র। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলায় ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এসব নকল টাকা।
এক লাখ টাকার জালনোট বিক্রি করা হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। ১০০ টাকা থেকে শুরু করে সব ধরনের নোট সরবরাহ করছে চক্রটি। এসব নোট এতটাই নিখুঁত যে সহজে আসল-নকল বোঝা যায় না।
সূত্র জানায়, অল্প সময়ে বড়লোক হওয়ার লোভে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীও এই কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। ঈদের আগে পোশাক, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে কেনাকাটা বেড়ে যায়। এই সময়কে লক্ষ্য করে কাপড় বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে লেনদেনের সময় জালনোট চালানোর ঘটনা বেশি ঘটছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের তাড়াহুড়োকে কাজে লাগিয়ে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার জালনোট চালিয়ে দেওয়া হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।
শহরের কেপি বসু সড়কের কাপড় ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এক ব্যক্তি দোকানে এসে ৭ হাজার টাকার মূল্যের দুটি শাড়ি কেনেন। সবগুলোই নতুন টাকার নোট দেন। পরে ওই ব্যক্তি চলে গেলে জানতে পারি ৭ হাজার টাকার মধ্যে ৪ হাজার টাকাই জালনোট।”
পায়রা চত্বর এলাকার ফল ব্যবসায়ী কাওসার আলী বলেন, “ইফতারের কিছুক্ষণ আগে দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে ফল কিনতে আসে। তারা ২ হাজার ৫০০ টাকার ফল কিনে নিয়ে যায়। পরে আড়তে টাকা দিতে গেলে মালিক বলেন ১ হাজার টাকার দুটি নোট জাল। তখন বুঝতে পারি ওই যুবকেরা জালনোট দিয়ে গেছে।”
অপরাধ বিশ্লেষক মো. লিয়াকত হোসেন বলেন, “বিভিন্ন উৎসব এলেই জালনোট চক্রের তৎপরতা বেড়ে যায়। তারা মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে। এতে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঈদের মৌসুমে প্রশাসনের নজরদারি আরও কঠোর করতে হবে। পাশাপাশি বাজারে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। না হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।”
সোনালী ব্যাংক ঝিনাইদহ শাখার উপ-ব্যবস্থাপক বসির উদ্দিন মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, “আসল টাকার নোট শনাক্ত করার জন্য কয়েকটি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা ও রং পরিবর্তনশীল কালি। এসব বৈশিষ্ট্য যাচাই করলে জালনোট শনাক্ত করা সহজ হয়। তবে ঈদের বেচাকেনার সময় ব্যবসায়ীদের হাতে সময় কম থাকে। এজন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কাজটি দক্ষ লোক দিয়ে করা উচিত।”
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ র্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেহেদি ইমরান সিদ্দিকি মেহেরপুর প্রতিদিনকে বলেন, “জালনোট কারবারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের সাইবার মনিটরিং টিম জালনোটের বিজ্ঞাপনদাতাদের বিষয়ে অনলাইনে কাজ করছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতারক চক্রের বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।”