
কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নিজ জন্মভিটায় ঈদ উদযাপন করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মজীবী মানুষ ফিরছেন গ্রামে। এই তালিকায় রয়েছেন প্রবাসীরাও।
আর নিজ এলাকায় ফিরেই তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকছে মৌসুমি দেশি ফল। দেশি ফলের স্বাদ নিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেকে। এতে বেড়েছে দেশি ফলের চাহিদা।
জেলার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে মৌসুমি অধিকাংশ সুস্বাদু ফলে বাজার ভরে গেছে। আবার দামের দিক থেকেও তুলনামূলক সস্তা। অন্যদিকে বিদেশি ফল শহর থেকে আমদানি করতে হয়। বর্তমানে বিদেশি ফলের আমদানিও তুলনামূলক কম এবং দামও বেশি। তাই এখন দেশি ফলের কদর অনেক বেড়েছে।
স্থানীয় বাজারে মৌসুমি ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ক্রেতাদের কাছেও দেশি ফলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
মেহেরপুরের বাজারগুলোতে দেশি ফলের মধ্যে রয়েছে আম, কামরাঙা, জামরুল, ড্রাগন ফল, পেঁপে, আনারস, পেয়ারা, কদবেল, কলা ও তালশাঁস। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল ও সবুজ মাল্টা। এসব ফলের চাহিদাও বাড়ছে বাজারে।
জেলায় দেশি ফলের বাজারদর চলছে প্রকারভেদে হিমসাগর আম ৮০ থেকে ৯০ টাকা, আঠি আম ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচা-মিঠা আম ৮০ টাকা কেজি। বোম্বাই লিচু প্রতি পণ ২৩০ টাকা এবং চায়না লিচু প্রতি পণ ৬৫০ টাকা।
আনারস প্রতি পিস ৫০ টাকা, ব্ল্যাক বেবি তরমুজ ৮০ টাকা কেজি, পেয়ারা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, কলা প্রতি পিস ৫ থেকে ৬ টাকা, জামরুল ৭০ টাকা কেজি এবং কামরাঙা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে আমদানি করা বিদেশি ফলের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে কমলা, মাল্টা, আপেল, বেদানা, চেরি, খেজুর ও আঙুর। বিদেশি ফলের খুচরা বাজারদর মাল্টা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, আপেল ৩৭০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, বেদানা ৬০০ থেকে ৬৩০ টাকা কেজি, চেরি ৪০০ টাকা কেজি, খেজুর ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে মানভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কমলা ৩৩০ টাকা কেজি, কাশ্মীরি আঙুর ৫২০ টাকা এবং ভারতীয় ও পাকিস্তানি আঙুর ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকা থেকে গ্রামে ঈদ করতে আসা মুস্তাক আহমেদ বলেন, “পাঁচ দিনের জন্য নিজ গ্রামে এসেছি পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে। বাজারে এসে দেখি রসালো ফলের সমাহার। দেখে লোভ সামলানো কঠিন। সতেজ দেশি ফল পরিবারের সঙ্গে খাওয়ার মজাটাই আলাদা।”
গার্মেন্টস ব্যবসায়ী গোলাম মোর্তাজা বলেন, “যান্ত্রিক শহর থেকে গ্রামে এসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো সবচেয়ে সুখের মুহূর্তগুলোর একটি। আর নিজ এলাকায় গাছ থেকে পেড়ে আনা রসালো আম-লিচুর স্বাদ নেওয়ার মজাই আলাদা। শহরে এসব ফল পাওয়া গেলেও মান নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকে। এখানে চোখ বন্ধ করে ফল খাওয়া যায়।”
মালয়েশিয়া প্রবাসী তুহিন বলেন, “দুই দিন হলো দেশে এসেছি। বিদেশে অনেক ফল পাওয়া যায়, তবে দেশের ফলের স্বাদই আলাদা। আজ বাজার থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে হিমসাগর আম কিনলাম, সঙ্গে লিচুও। চায়না লিচুর দাম একটু বেশি হলেও স্বাদের দিক থেকে সেরা।”
গাংনী উপজেলার বামন্দী বাজারের পাইকারি বিদেশি ফল বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এ অঞ্চলের অধিকাংশ ফলের দোকানি আমার কাছ থেকে পাইকারি ফল কিনে নেন। কিন্তু এখন তারা বলছেন, দেশি ফলই বেশি বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি ফলের চাহিদা কমে গেছে। এতে আমরা বিপদে পড়েছি। জেলায় ফল সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বিক্রি না হলে দ্রুত পচে যায়। তাই এখন দেশি ফলই আমাদের ভরসা।”
ফল বিক্রেতা শিহাব বলেন, “আগে মাল্টা, কমলা, আপেল ও আঙুর বিক্রি করতাম। মাসখানেক ধরে লিচু, আম, পেয়ারা ও আনারস বিক্রি করছি। গাছ থেকে পেড়ে এনে সরাসরি ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। প্রতিদিন ফল আনছি, প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও খুশি, আমরাও খুশি। দামও সাধ্যের মধ্যে।”
তিনি আরও বলেন, শহর থেকে গ্রামে ঈদ করতে আসা মানুষজন এখন দেশি ফলের প্রতিই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, বিদেশি ফল শহরেই পাওয়া যায়, কিন্তু গ্রামের টাটকা দেশি ফলের স্বাদ আলাদা।