
উৎসবের আমেজ বইছে অনূর্ধ্ব-২০ সাফজয়ী ফুটবলার আশিকুরের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার জালালপুরে।
তিনি বাড়িতে আসার পর থেকে তাঁর সাফল্যে খুশি হয়ে ফুল, মিষ্টি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে শুভাকাঙ্ক্ষীরা অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। এদিকে বাড়িতে বসে টিভির পর্দায় ছেলের খেলা দেখার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় উচ্ছ্বসিত কৃষক পিতা শমসের আলী।
জানা যায়, ২০১৮ সালে কোটচাঁদপুর জালালপুর দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন আশিকুর রহমান (১৯)। ছোটবেলা থেকেই খেলার প্রতি তাঁর টান ছিল। এ কারণে তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল অনুশীলন করতেন। তাঁর খেলা দেখে মুগ্ধ হন জালালপুর গ্রামের সেই সময়কার খ্যাতিমান ফুটবলার ইউসুফ আলী। তিনি আশিকুরকে বিকেএসপিতে যোগদানের পরামর্শ দেন।
তাঁর পরামর্শে আশিকুর বিকেএসপিতে ভর্তির জন্য অনুশীলন শুরু করেন ফুটবলার আনোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে কোটচাঁদপুর খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজ মাঠে। কিছুদিন পর বিকেএসপিতে ট্রায়াল ম্যাচ খেলার ডাক পান তিনি। ট্রায়াল ম্যাচে ভালো খেলে উত্তীর্ণ হন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আশিকুরকে। সামনের দিনগুলো ছিল তাঁর ও তাঁর পিতার স্বপ্ন পূরণের পথচলা।
ইতোমধ্যে আশিকুর ৭টি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ ভারত ২০২২, সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ শ্রীলঙ্কা ২০২২, এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ কোয়ালিফায়ার বাংলাদেশ ২০২২, সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ ভুটান ২০২৩, সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ ভুটান ২০২৪, সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ ভারত ২০২৫ এবং সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ মালদ্বীপ ২০২৬।
এসব টুর্নামেন্টের বেশিরভাগে তিনি রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তবে সর্বশেষ ২০২৬ সালে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের মাধ্যমে বড় অর্জন এসেছে তাঁর ঝুলিতে।
এই অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় আশিকুর রহমান বলেন, “আমার এই অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার পিতা-মাতার। এরপর আমাকে বিকেএসপিতে যোগদানের জন্য অনুপ্রেরণা দিয়েছেন বড় ভাই ফুটবলার ইউসুফ আলী। আর যিনি আমাকে প্রস্তুত করেছেন, তিনি হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর ও পিডব্লিউডি ক্লাবের হেড কোচ আনোয়ার হোসেন। আমি এই মানুষগুলোর কাছে চিরদিন ঋণী থাকব। আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যেন ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারি।”
পিতা শমসের আলী বলেন, “জালালপুর স্কুলে ৯ম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমি ইন্টার-স্কুল ফুটবল খেলেছিলাম। এরপর আর পড়াশোনা বা খেলা হয়নি। তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল ছেলেকে ভালো ফুটবলার বানাবো। সে দেশের ও বিশ্বের মানুষের মন জয় করবে, আর আমি বাড়িতে বসে টিভিতে তার খেলা দেখব। আজ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি চাই সে দেশের জন্য আরও ভালো কিছু বয়ে আনুক।”
এদিকে ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা রেহেনা বিবি। আনন্দে কথা বলতে না পারলেও কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
ফুটবলার আশিকুর রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর ও পিডব্লিউডি ক্লাবের হেড কোচ আনোয়ার হোসেন বলেন, “আশিক খুব ভালো ছেলে। সে সব সময় নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থাকে এবং পড়াশোনাতেও ভালো। সে কঠোর পরিশ্রমী।”
তিনি আরও বলেন, “আশিকুর বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার কারণেই আজ এই পর্যায়ে আসতে পেরেছে। বর্তমানে সে পিডব্লিউডি ক্লাবের হয়ে বি-লীগ খেলছে। আশা করি, একদিন সে বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় দলে খেলবে এবং কোটচাঁদপুরের সম্মান আরও বাড়াবে।”