
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সফরকে ঘিরে উত্তেজনা, হামলা এবং ছাত্রদল নেতাদের নামে মামলার পর এবার এনসিপির ২২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ এনামুল কবির (৩৫)। মামলায় পিস্তলের বাট দিয়ে মারধর ও নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আজ শনিবার ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এজাহারে হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র প্রদর্শন, ছিনতাই, সম্পদ বিনষ্ট এবং প্রাণনাশের হুমকিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা, মেহেদী হাসান আশিক, সিয়াম উদ্দিন তুর্য, তানাঈম, আসিফ, অয়ন রহমান খান, তাইন, জয়নাল, আলমগীর, শাহরিয়ার অভীক, হৃদয় মাস্টার, লাবাবুল বাশার লাবু, সিহাব শাহ, নয়ন, সুলতান শাহ, হৃদয়, রুবায়েত হাসান তুর্য, শেখ সামি, রিফাত, হাকিম, কাইসার ও ইমরান। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ এনামুল কবির জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীর উদ্দিন পাটওয়ারী দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। ওই বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করা হচ্ছিল বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এনামুল কবির ভদ্রভাবে এ ধরনের মন্তব্য না করার অনুরোধ করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। প্রথমে মেহেদী হাসান আশিক তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। পরে তানাঈম ইট দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করলে তার কপালে গুরুতর জখম হয়। আসামি তাইন ও জয়নাল মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আহত এনামুলকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা সঙ্গীদের দিকে মেহেদী হাসান আশিক কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি করার হুমকি দেন এবং একপর্যায়ে গুলি করতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ছাত্রদল নেতা হৃদয় হোসেনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা এক ব্যক্তিকে অয়ন রহমান খান ধারালো দা দিয়ে কোপ দেন। মাথা সরিয়ে নেওয়ায় কোপটি বাম চোখের কোণে লাগে এবং গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, সিয়াম উদ্দিন তুর্য কোমর থেকে পিস্তল বের করে নয়ন হাওলাদারকে হত্যার হুমকি দেন এবং পিস্তলের বাট দিয়ে মারধর করেন। একই সময়ে লাবাবুল বাশার লাবু ছাত্রদল নেতা নয়ন হাওলাদারের কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন এবং একটি মোবাইল ফোন আছাড় মেরে ভেঙে ফেলেন, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার (২২ মে) ঝিনাইদহ জেলা ডিসি কোর্ট এলাকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ এনে মামলা করে এনসিপি। ওই ঘটনায় ছাত্রদলের ৮ নেতার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন এনসিপি নেতা তারেক রেজা।