
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে যশোর শিক্ষা বোর্ডের বৃত্তির ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মেহেরপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে গাংনীর সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে।
জেলায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেহেরপুর সদরের জিনিয়াস ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
সোমবার যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন স্বাক্ষরিত বৃত্তির ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
বোর্ডের জেলাভিত্তিক ফলাফলে প্রথম স্থানে রয়েছে খুলনা জেলা। এ জেলার ৫৪৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ১১৬ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৪২৮ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা যশোর জেলায় ৭৯ জন ট্যালেন্টপুলে ও ৩৮৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এ জেলায় মোট বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬৫ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কুষ্টিয়া জেলা। এ জেলার ২৭ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৩১৪ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। মোট বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪১ জন।
এ ছাড়া চতুর্থ স্থানে ঝিনাইদহ, পঞ্চম স্থানে সাতক্ষীরা, ষষ্ঠ স্থানে চুয়াডাঙ্গা, সপ্তম স্থানে বাগেরহাট, অষ্টম স্থানে নড়াইল, নবম স্থানে মাগুরা এবং দশম স্থানে রয়েছে মেহেরপুর জেলা। মেহেরপুরে ৪ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে এবং ৯৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ১৫১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ২৯৮ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১ হাজার ৮৫৩ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।
মেহেরপুর জেলার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গাংনীর সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জিনিয়াস ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ২ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১১ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।
মেহেরপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ জন এবং মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১ জন ট্যালেন্টপুলে ও ৫ জন সাধারণ গ্রেডে, গাংনী পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২ জন, বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৩ জন, জোতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, মিকুশিশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৩ জন এবং মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।
সার্বিক ফলাফলে মেহেরপুর জেলায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ শীর্ষে রয়েছে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এগিয়ে রয়েছে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের বৃত্তির ফলাফলে মেহেরপুর জেলা দশম স্থানে থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে। তবে আগামীতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে বোর্ডের মেধাতালিকায় জেলার অবস্থান উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
বৃত্তির ফলাফল সম্পর্কে সন্ধানী সংস্থা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আবু জাফর বলেন, “আমাদের সংস্থার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা, যাতে তারা নিজেদের যোগ্য করে সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে। আমরা চাই, তারা নিজেদের দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণেও ভূমিকা রাখুক।”