
কোটচাঁদপুর উপজেলার সাবদারপুর মুনসুর আলী একাডেমিতে প্রায় ৭শ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
দীর্ঘদিন ধরে কক্ষ সংকট নিরসনে একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও তা আজও শেষ হয়নি। এ অবস্থায় দ্রুত সমাধান চেয়েছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিন উদ্দিন বলেন, কোটচাঁদপুর উপজেলার একটি পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো সাবদারপুর মুনসুর আলী একাডেমি। আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের ছেলে-মেয়েরা এখানে লেখাপড়া করে। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয়শ থেকে সাতশ শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত।
তিনি জানান, এত শিক্ষার্থীর জন্য যেখানে ১৮ থেকে ২০টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন, সেখানে বিদ্যালয়ে রয়েছে মাত্র ১৪টি কক্ষ। ফলে বাধ্য হয়ে কমন রুম, বিজ্ঞান ল্যাব, কম্পিউটার ল্যাব ও শিক্ষকদের অফিস কক্ষেও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
কক্ষ সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলে ঝিনাইদহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা একাডেমিক ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যায়। যার প্রথম তলার নির্মাণকাজ ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি শুরু হলেও আজ পর্যন্ত শেষ হয়নি।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, আগে থেকেই বিদ্যালয়ে কক্ষ সংকট ছিল। নতুন শিক্ষাবর্ষে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। দ্রুত নির্মাণাধীন ভবনের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে রিফাত আরা ট্রেডিং নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ওবায়দুর রহমান বলেন, কাজটি তার লাইসেন্সে হলেও তিনি নিজে কাজটি করেননি। তিনি কাজটি শৈলকূপা উপজেলার ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম নামের একজনের কাছে বিক্রি করে দেন।
তিনি জানান, কাজ শুরুর পর কিছুদিন চললেও পরে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঝিনাইদহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত কুমার পাল বলেন, ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ওই বছরের ১৩ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক সমস্যার অজুহাতে বারবার কাজ বন্ধ করে দেয়। একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও কাজ না করায় প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে কাজটি পুনরায় টেন্ডারের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক কুমার জানান, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ধারণক্ষমতা বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। কর্তৃপক্ষ তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে বসিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।