মেহেরপুরের পাইকারি ও খুচরা বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় সবজি, মুরগি ও মাছের দামে ওঠানামা দেখা গেছে। বর্ষার কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পাইকারি বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় আলুর দাম কমে কেজি ১৭ টাকায় নেমেছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০ টাকা। পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ৭০ থাকলেও এ সপ্তাহে বেড়ে ৮০ টাকা। রসুনের দাম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা। কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে নেমে ১০০ টাকায়। বেগুন ৭০ টাকা কেজিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। আদার দাম বেড়ে ১৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ টাকা। তবে শশার দাম ৭০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।
মুরগির মধ্যে ব্রয়লার মুরগির পাইকারি দাম কমে ১৬০ হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ টাকা, সোনালী মুরগির দাম কমে ২৬০ টাকা হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিলে ২৭৫ টাকা এবং লেয়ার মুরগি কেজি ২৮৫ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
খুচরা বাজারে আলুর দাম ২০ টাকায় স্থিতিশীল। পেঁয়াজ ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকায়, রসুন ৭০ থেকে বেড়ে ১৪০ টাকায়, কাঁচা মরিচ ১৮০ থেকে ১২০ টাকায় নেমেছে। তবে শশার দাম ৭০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
পটল, ঢেঁড়স, কলা ও পেঁপের দাম স্থিতিশীল থেকে যথাক্রমে ৬০, ৫০, ৬০ ও ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আদার দাম ২০০ থেকে বেড়ে ২২০ টাকায় উঠেছে।
মুরগির খুচরা বাজারে ব্রয়লার কমে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ টাকা, সোনালী মুরগির দাম কমে ২৮০ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিলে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগির দাম ৩১০ টাকায় স্থিতিশীল থেকে বিক্রি হয়েছে।
মাছের বাজারে রুই ২৫০, তেলাপিয়া ১৮০, বাটা ২০০, পাঙাশ ১৬০, সিলভার ১৫০, জিওল ৩৫০, চিংড়ি ১১০০, টেংরা ৮৫০ এবং ইলিশ ৭০০-২৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
ছাগলের মাংস শুক্রবারে শুরুর দিকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হলেও বেচা কেনা কম হওয়ায় ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস সর্বদা ৭৫০ টাকায় অপরিবর্তিত।
মাছ বিক্রেতা নাহিদ বলেন, আমদানি কম হওয়ার কারণে মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় একটু বেশি।
সবজি বিক্রেতা হাফিজুর রহমান বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ সবজির দাম প্রায় একই রকম আছে, আমদানি কম হওয়ার কারণে দাম একটু ওঠানামা করছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি এই আমদানি কমের মূল কারণ।
সবজি বিক্রেতা মোঃ মহির উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সাপ্তাহে শুধু কাচা মরিচের দাম কমেছে বাকি সব একই আছে। দাম বেশি থাকার কারণে ক্রেতারা বাজারে আসছেন না তাই আশানুরূপ বেচা-কেনা হচ্ছে না। সবজি বিক্রেতা মোঃ নবাব বলেন, বৃষ্টি এবং জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় বেচা-কেনা কম। অনেক ক্ষেত্রে বৃষ্টি কারণে গ্রাম থেকে সবজি গাড়ি করে আনা যায় না।
মুরগি বিক্রেতা রিপন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে সব ধরনের মুরগীর দাম ১০ টাকা করে কমেছে, তবে লেয়ার মুরগির দাম একই আছে। দাম কমলে ক্রেতা ও আমাদের উভয়েরই সুবিধা হয়। ক্রেতারা বেশি করে কিনতে পারেন।
ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এভাবে প্রতিদিন দাম ওঠানামা খুবই কষ্টকর এবং সংসার চালানো হুমকির মুখে।
সবজি ক্রেতা কৃষ্ণ দাস সাহা বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় কাঁচা মরিচের দাম কমলেও অন্যান্য সবজিতে ১০-২০ টাকা করে কম বেশি রয়েছে।
সবজি ক্রেতা লিজন বলেন, সবকিছুর দাম এতোই বেড়েছে যে ৫০০ টাকার বাজারে ২ দিনও চলে না। গত সপ্তাহে যে রসুন ৮০ টাকায় কিনলাম এই সপ্তাহে ১৪০ টাকা টাকায় কিনতে হচ্ছে।
সবজি ক্রেতা বুজাইফা বলেন, এখন বাজারে প্রতিদিনই দাম ওঠানাম করছে। গত সপ্তাহে যে সবজি কম দামে কিনেছি, এই সপ্তাহে তার দাম বেড়েছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের কষ্ট হচ্ছে।
মেহেরপুর তহ বাজারের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফি বলেন, বর্তমানে কাঁচামালের বাজার নিয়ন্ত্রণে, গত সপ্তাহে যে কাঁচা মরিচ ১৭০ টাকা ছিল, এই সপ্তাহে ওই কাঁচা মরিচ ৯৫ টাকা। আর অন্যান্য সবজিগুলোর মধ্যে সবগুলোর দাম মোটামুটি স্বাভাবিক। কিছু কিছু সবজি বৃষ্টির কারণে আমদানি কম হওয়ায় দাম একটু বেশি আবার কিছু সবজির দাম কম।
তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে কিছু সবজির বাজার দাম তুলনামূলক কম। কাঁচামালের দাম সাধারণত আমদানি রপ্তানির উপর নির্ভর করে। আমদানি স্বাভাবিক থাকলে দাম স্বাভাবিক থাকে। বর্তমানে কিছু কাচাঁমালের আমদানি স্বাভাবিক থাকায় সেগুলোর দাম স্বাভাবিক রয়েছে আর বাকি গুলোর সামান্য অস্বাভাবিক রয়েছে।