
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সুন্নাত আলীকে তাঁর স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর এস. এম. তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আদেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, মো. সুন্নাত আলীর বিরুদ্ধে আনীত মামলাসমূহ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, তাঁর চাকরি করার ক্ষেত্রে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে পাঠানো স্মারক এবং বোর্ডের আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশন কমিটির ৭৮তম সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনাব মো. সুন্নাত আলীকে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের তারিখ থেকে যাবতীয় পাওনাদিসহ স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে বোর্ডকে অবহিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যশোর শিক্ষা বোর্ড এই আদেশের অনুলিপি মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং খুলনা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানান, আদালতের বাধা না থাকায় বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্নাত আলী বলেন, “কাথুলী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ বিশ্বাস কুতুবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি নিয়োগ হওয়ার পর থেকে শিক্ষক নিয়োগে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন করতেন। ঘুষ গ্রহণে বাধা দিতে গেলে তিনি আমাকে পেশিশক্তি প্রয়োগ করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন। পরে তিনি আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করেন। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন অর্থকষ্টে থাকতে হয়েছে। অবশেষে সত্যের বিজয় হয়েছে, তা আবারও প্রমাণিত হলো।”